আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সাক্ষাৎকার / ব্যক্তিত্ব

নারীর এগিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবারের সহযোগিতা দরকার : রাবেয়া খাতুন

ফরিদা ইয়াসমিন: সাহিত্য জগতের উজ্জ্বল নাম রাবেয়া খাতুন। তথাকথিত মহিলা লেখকের গন্ডি থেকে বেরিয়ে এসে নিজেকে লেখক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন। কয়েকজন উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিকের নাম করতে গেলে রাবেয়া খাতুনের নাম উচ্চারণ করতেই হয়। পঞ্চাশের দশকে লিখতে শুরু করেন রাবেয়া খাতুন। রাবেয়া খাতুনের উপন্যাস ‘মধুমতি’, সাহেব বাজার’ ‘বায়ান্ন গলির এক গলি’, ‘অনন্ত অন্বেষা’, ‘মোহর আলী’, ‘নীল নীশিত’, ‘মেঘের পরে মেঘ’, ‘ফেরারী সূর্য’, ‘মালিনীর দুপুর’, ‘সৌন্দর্য সংবাদ’ ইত্যাদি পাঠক মহলে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।
ঢাকা জেলার বিক্রমপুর গ্রামে ১৯৩৫ সালে রাবেয়া খাতুনের জন্ম, বাবা মোহাম্মদ মুল্লুক চাঁদ। মা হামিদা খাতুন। পঞ্চাশের দশকে সেই যে লেখা শুরু করেছিলেন এখনও রাবেয়া খাতুন নিয়মিততই লিখছেন। রাবেয়া খাতুনের অভিজ্ঞতা লেখালেখি ও সম্প্রতিক ভাবনা জানতে মুখোমুখি হই তাঁর। দীর্ঘ আলাপচারিতার সারবস্তু পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলÑ

ওমেন আই ঃ যতদূর জানি আপনি প্রথম জীবনে সাংবাদিকতা দিয়ে শুরু করেছিলেন। পুরোপুরি সাহিত্য চর্চায় কিভাবে এলেন।
রাবেয়া খাতুন ঃ প্রথম আটমাস মাস্টারী করেছিলাম সিদ্ধেশ্বরী হাইস্কুলে। তারপর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম দিকে মাসিক পত্রিকা সিনেমায় কাজ করি। এটি ১৯৫২ সালে বের হয়। এতে আমি দীর্ঘদিন কাজ করি। ১৯৫৪ সালে আমি নিজে একটি মাসিক পত্রিকা বের করি, তার নাম ‘অঙ্গনা’। তারও আগে যদি সাংবাদিকতার হাতে খড়ি বল তা হচ্ছে সিদ্ধেশ্বরী স্কুলে থাকাকালীন আমি ও জাহারারা ইমাম মিলে একটি মহিলা পাক্ষিক পত্রিকা বের করতাম। তার নাম দি ‘খাওয়াতিন’ অর্থ মহিলাগণ। বছর খানেক এই পত্রিকাটা বের হয়। আর সাহিত্য চর্চা যদি বল সেটা আরও আগে থেকে। আমার বয়স যখন ১২/১৩ বছর তখন থেকেই আমি লিখি। পাতার পর পাতা লিখে যেতাম। আমার সাহিত্য চর্চার পেছনে একজনের বিরাট অবদান আছে তিনি আমার এক জ্যাঠতুত ভাই আব্দুল মজিদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকতেন। প্রতি শনিবার আমাদের বাড়িতে আসতেন। রাতে মা চাচীরা তার কাছে গল্প শুনতেন। আমি তখন খুবই ছোট। ঘরের এক কোণে বসে সেই গল্প শুনতাম। সেগুলো আমার মনে বিরাট প্রভাব ফেলেছিল। এভাবেই আমার গল্প উপন্যাসের প্রতি আকর্ষণ জন্মে। প্রচুর পড়তাম। পাঠ্য বইয়ের নিচে গল্পের বই রেখে পড়তাম। ধরা পড়ে মার প্রচন্ড বকুনি খেয়েছি।
ওমেন আই ঃ বলা যায় যে আপনি পড়তে পড়তে লেখক হয়েছেন।
রাবেয়া খাতুন : হ্যাঁ তাই বলা যায়, পড়তে পড়তেই লেখক হয়েছি। এখানে আমার ভাইয়ের অবদানকে খুবই উল্লেখযোগ্য মনে করি। আর একজন আমার বড় বোন। তার নাম নূরজাহান বেগম। তিনি এমন মজা করে গল্প বলতেন যে, মনে হতো আমি সব দেখতে পাচ্ছি। এভাবেই গল্প লেখার প্রতি আমার আগ্রহ জন্মে।
ওমেন আই ঃ লেখক হওয়ার জন্য কি একটি প্রস্তুটি দরকার?
রাবেয়া খাতুন ঃ শুধু লেখক হওয়ার জন্য নয়। যে লেখে তাকে শুধু পড়াশুনা না সারা দুনিয়ার খবরই রাখতে হবে। আমি এখনও নিজেকে ছাত্রী মনে করি। এখনও অনেক পড়ি। আমার মনে হয় প্রত্যেকে সৃজনশীল মানুষ তিনি লেখক হোন বা অন্যকিছু হোন তার জীবনটা সাধনার, এটা একেবাওে সোজা রাস্তা না যে সোজা রাস্তায় হেঁটে গেলাম।
ওমেন আই ঃ আপনার লেখা প্রথম কবে কোথায় প্রকাশিত হয়? সে সময়কার অনুভ’তির কথা বলবেন কি?
রাবেয়া খাতুন ঃ আমার প্রথম গল্প ‘প্রশ্ন’ ছাপা হয় ১৯৪৯ সালে। যুগের দাবী নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায়। এর সম্পাদক ছিলেন কাজী মোস্তফা। তারপর মাহে নও, বেগম-এ ছাপা হল। বেগম কলকাতা থেকে বের হত। আমার গল্প ছাপা হচ্ছে আমি খুব উৎফুল্ল। আমার একজনই পাঠক। আমার ছোট বোন। সে খুব উৎসাহিত বোধ করত। সে বলল তার পরে হবে উপন্যাস, মর্ডান উপন্যাস। যখন উপন্যাস লিখব বলে ভাবছি সে সময় আমার বড় বোনের শ্বশুর আমার বাবার কাছে একটি চিঠি লিখলেন তা ছিল এই রকম যে, ‘এই পরিবারের একটি মেয়ের হস্তাক্ষর পর পুরুষেরা দেখেছে। উহা উভয় পরিবারের জন্য লজ্জাজনক।’ বোনের শ্বশুরের এই চিঠির পর বাবা ডেকে বললেন আর লেখাটেখা পাঠাতে হবে না। আমি আর লেখা পাঠাইনি। আজকের যে রাবেয়া খাতুন তার লেখার মৃত্যু তো সেদিনই হয়ে যেত। কিন্তু আমি খুবই সৌভাগ্যবান যে বিয়ের পরে লেখেিলখির একটা বিরাট পরিবেশ পেয়ে গেলাম। বিয়ের পরে মেয়েদের অনেক রকম বাধা-বিঘœ আসে। বলতে পারো, আমার জন্য একটি জানালা বন্ধ ছিল। কিন্তু দরজা খুলে গেল। আমার বিয়ে হল সিনেমা পত্রিকার সম্পাদক ফজলুল হকে সঙ্গে। আমাদের সিনেমা পত্রিকায় সন্ধ্যাবেলা সাহিত্যের আসার বসতো। বাংলাদেশে সাহিত্যের আসর বসা সেটাই বোধ হয় প্রথম। ১৯৫৪ সালের কথা। বড়দের মধ্যে ছিলেন, ওবায়দুল হক, তাছাড়া আলাউদ্দিন আল আজাদ, হাসান হাফিজুর রহমান, শহীদ জহির রায়হান, সৈয়দ শাসমুল হক এরা সবাই প্রত্যেকদিন সন্ধ্যাবেলা সাহিত্যের আসরে আসতেন। এদের সাথে আমার বন্ধুত্ব হয়। একসঙ্গে এতগুলো ছেলের সঙ্গে বন্ধুত্ব হল। এখন পর্যন্ত আছে। খুবই সুন্দর সম্পর্ক। আমরা একটা ভাল বই পড়লে অন্যজনকে দিতাম। কখনো কখনো আমারা পরামর্শ করে বই কিনতাম। তা বিনিময় করে পড়তাম।
ওমেন আই ঃ একজন নারীর এগিয়ে যাওয়ার জন্য তার স্বামীর ভ’মিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
রাবেয়া খাতুন ঃ শুধু স্বামী নয়। বাবা-মা, স্বামী এবং পরবর্তী সংসারে যারা থাকবে প্রত্যেকের সহযোগিতা দরকার। আমাদের মানসিকতাই এমন যে, কোন ব্যাপারে পরিবার থেকে যদি আপত্তি আসে বা যদি এমন হয় যে, পরিবার ঠিক পছন্দ করছে না, একদিন হয়ত ভাবনা আসবে যে, কি হবে এসব করে? এভাবে আমাদের সময়ের ভাল ভাল লেখক এসেছিলেন, যারা পরবর্তী সময়ে ঝরে গেছেন।
ওমেন আই ঃ আপনি তো দীর্ঘদিন ধরে লিখছেন। সংসার সন্তান সামলিয়ে কিভাবে লিখছেন?
রাবেয়া খাতুন ঃ আমি আগাগোড়াই সংসারে জড়ানো। ছেলে-মেয়ে-মানুষ করার দায়িত্বও আমার ওপর ছিল। কখন কি করব সময় ঠিক করে নিয়েছি। সেই অনুযায়ী আমিও এখন সংসারের দেখাশুনা করি। নিয়মিত পড়াশুনা করি, নাটক সিনেমা দেখি, গান শুনি এবং লেখালেখি করি, আমি কথনো দুপুরে ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করি না। আমার সবটুকু সময়কে আমি কাজে লাগাই।
ওমেন আই ঃ পুরুষের তুলনায় একজন নারী কি লেখালেখির জন্য সময় এবং সুযোগ অনেক কম পাচ্ছে?
রাবেয়া খাতুন ঃ অনেক অনেক কম পাচ্ছে। ধরো, সমান মেধার স্বামী এবং স্ত্রী। দু’জনেই চাকরি করছে। কিন্তু ঘরে ফিরে এসে বউটিকে বাচ্চা দেখতে হচ্ছে, স্বামীর পরিচর্যা করতে হচ্ছে অথবা চাকরি না করলেও সংসারে তাকে অনেক সময় দিতে হয়। এটা শুধু আমাদের দেশে নয়। পৃথিবীর সব দেশের মেয়েদের একই অবস্থা। ছেলেরা সংসারী না তা বলব না, কিন্তু মেয়েরা তাদের সমস্ত সত্ত্বাটি সংসারে ঢেলে দেয়। এই সংসারী মেয়েরা যারা পরিপূর্ণভাবে সংসারের দায়িত্ব ঠিক রেখে লিখছেন। এর জন্য প্রচন্ড শক্তি দরকার।
ওমেন আই ঃ আপনার লেখায় নারীকে চিত্রায়িত করেন কিভাবে? অর্থাৎ নারী চরিত্রের কোন দিকটিকে আপনি প্রাধান্য দেন?
রাবেয়া খাতুন ঃ সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেই নারীকে আত্মবিশ্বাসীরূপে। আমি বলি নারীকে তার অ^ধিকার আদায় করে নিতে হবে। তারপর যেটা তা হচ্ছে নারীর আত্মসম্মানবোধ সেটা যেন সব সময় থাকে। এই আত্মসম্মানবোধ বাবা-মা, স্বামীর বা ছেলে-মেয়ের কাছেও হতে পারে। আমাদের সমাজটাই এমন কোন মেয়ের জীবনে যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে যায় তাহলে সমাজ সেটা ভালভাবে নেয় না। কিন্তু আমি কি করি? ওই মেয়েটিকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলি। কারণ ঘটনা একটা ঘটে গেছে বলে আমার জীবন তো শেষ হয়ে যায় নি। আমার জীবন আমাকে গড়ে নিতে হবে। তাকে আমি নিজের পায়ে দাঁড় করাই।
ওমেন আই ঃ কোন দায়িত্ববোধ থেকে আপনি লিখছেন?
রাবেয়া খাতুন ঃ আমার কোন দায়িত্ববোধ নেই। আমি যখন প্রথম লিখি তখন আমার বয়স ১২/১৩। তখন থেকেই লিখছি। ভাল লাগতো বলে লিখতাম। বই পড়ার জন্য বকুনী খেতাম। আমার ভালো লাগতো তাই পড়তাম। এগুলো আজ পর্যন্ত আমার মধ্যে কাজ করছে। আমার ভাল লাগে, আমি লিখি এবং এগুলো যদি কারও ভাল লাগে, কারও কাজে আসে, তাহলে আমি নিজেকে ধন্য মনে করব।
ওমেন আই ঃ আপনার সামাজিক দায়বদ্ধতা …
রাবেয়া খাতুন ঃ আমার লেখার মধ্যেই নিশ্বয়- তা পাবে। কিন্তু আমি দায়বদ্ধতা বলব না। আমি দায়বদ্ধতা কথাটি ব্যবহার করি না। আমি বলব আমার ভাল লাগার, আমার লেখা পড়ে যদি পাঠক উপকৃত হয়। যদি কারও ভাল লাগে আমি নিজেকে ধন্য মনে করি।
ওমেন আই ঃ নারী স্বাধীনতা বলতে আপনি কি বুঝেন?
রাবেয়া খাতুন ঃ নারী স্বাধীনতা বলতে আমি বুঝি তার সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে, পারিপাশ্বিক জগৎ সম্পর্কে জানা থাকতে হবে, এবং আরও মনে করি সে যদি সংসারে সঠিকভাবে চলে তাহলে সংসার থেকে সমাজ, সমাজ থেকে রাষ্ট্রে প্রভাব পড়বে। কারণ এক সময় সে মেয়ে, এক সময় সে মা। অর্থাৎ সংসারের ছোট পরিবেশে থেকেই সে ভাল একটি চালিকা শক্তি।
ওমেন আই ঃ সামগ্রিকভাবে আমাদের নারী সমাজ কতটা এগিয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
রাবেয়া খাতুন ঃ যুগের প্রয়োজনে যতটা দরকাট ছিল ততটা এগিয়েছে বলে আমার মনে হয় না। তবে এগিয়েছে। অগ্রগতি থেমে নেই। তবে মেয়েদের আত্মবিশ্বাস আর সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে। চারিত্রিক দৃঢ়তা থাকতে হবে।
ওমেন আই ঃ লেখা প্রকাশের ব্যাপারে কখনও কি আপনার মনে হয়েছে যে আপনি নারী হিসাবে বৈষম্যের শিকার হযেছেন?
রাবেয়া খাতুন ঃ বৈষম্য তখনও ছিল এখনও আছে। অবশ্যই পুরুষ এবং নারীর বৈষম্য আছে।
ওমেন আই ঃ শৈশব আপনার লেখায় কতটা প্রভাব ফেলেছে?
রাবেয়া খাতুন ঃ আমার মনে হয় শুধু আমার না যে কোন রাইটারের কৈশোরের যে স্মৃতিগুলো থাকে সারাজীবন তা কাজে লাগে। কৈশোরে অনেককিছু তারা দেখে যা পরবর্তী সময়ে তা বুঝতে পারে। আমার প্রথম উপন্যাস ‘মধুমতি’ তাঁতীদের জীবন নিয়ে লেখা যা আমি কৈশোরে খুব কাছ থেকে জীবন্ত দেখেছি বলেই আমার হাত দিয়ে তা এসেছে। পরবর্তীতে ‘সাহেব বাজার’ এর কথাই ধর। ঢাকাই কুট্টিদের নিয়ে। বাবার বদলির চাকরি। কিন্তু বেশিরভাগ সময় আমরা ঢাকায় থাকতাম। তাদের জীবনধারা আমি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছি। সাহব বাজার পড়লে পুরানো ঢাকার সেই চেহারা পাওয়া যায়। ঢাকাইয়াদের আপার ক্লাস নিয়ে লেখা ‘বায়ান্ন গলির এক গলি’ সেটাও কিন্তু আমার দেখা থেকেই লিখেছি।
ওমেন আই ঃ আপনার দৃষ্টিতে আপনার শ্রেষ্ঠ কাজ কোনটি?
রাবেয়া খাতুন ঃ এটা ভাল কি ওটা ভাল নয় আমি বলতে পারব না। আমি যখন যেটা করি সেটাই আমার ভাল লাগে। আমি তখন এত মগ্ন থাকি যে, ছেলেমেয়েদের বলি আমি তোমাদের সঙ্গে থাকলেও আমি অন্যদেরকে নিয়ে আছি। আমি সব সময় আমার কারেকটরগুলোর সঙ্গে থাকি। কিন্তু শেষ হয়ে গেলে মনে হয় কিছু হয়নি।
ওমেন আই ঃ তার মানে একটা অতৃপ্তি …
রাবেয়া খাতুন : হ্যাঁ একটা অতৃপ্তি কাজ করে।
ওমেন আই ঃ আচ্ছা আমাদের দেশীয় সাহিত্য কি নোবেল প্রাইজ পেতে পারে বলে মনে করেন?
রাবেয়া খাতুন ঃ নোবেল প্রাইজ আজকাল একেবারে নির্ভেজাল নাই। প্রাপ্তির মধ্যে নানা কারণ থাকে। তবে জেনুইন যে থাকে না তাও নয়, থাকে। বাংলাদেশের সাহিত্য যথেষ্ট বলিষ্ঠ পদক্ষেপ রেখেছে। একটা নয়, একাধিক বই এই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। এবং আমি আরও মনে করি সেই পুরস্কারটি হবে বাংলাভাষার উপরে লিখিত বই, যে ভাষার জন্য বাংলাদেশের লোক লড়াই করেছে। আজ সেটি সারা পৃথিবীতে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এই ভাষার বইকে পুরস্কার দিতে হলে ভাষান্তরে নয়, তার আসল চেহারায় দেয়া উচিত।
ওমেন আই ঃ বর্তমান প্রজন্মের মেয়েদের লেখা কি পড়েন? তাদের সম্পর্কে মন্তব্য করুন।
রাবেয়া খাতুন ঃ অবশ্যই পড়ি। তাদের অনেকের মধ্যে আমি আশা দেখি, আগুন দেখি। তবে তাদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে, তাদের অনেক পরিশ্রমী হতে হবে। তারা প্রয়োজনীয় শ্রম দিচ্ছে না। আমি আশাবাদী ভবিষ্যতে তারা সেই শ্রম দিবে। বর্তমান প্রজন্মের উদ্দেশ্যে আমি আর একটা কথা বলব, তারা যেন স্বাস্থ্যসচেতনও হয়। শরীর ভাল থাকলেই পরিশ্রম করাও সম্ভব। যে কোন শিল্প পরিশ্রম দাবি করে। কিন্তু আমার ধারণা, বর্তমান প্রজন্ম ততটা পরিশ্রমী নয় যতটা প্রয়োজন।
ওমেন আই : আপনার ছেলে মেয়ে ক’জন? তারা কে কি করেন?
রাবেয়া খাতুন ঃ আমার দুই ছেলে। বড় ছেলে সাগর- একটি প্রাইভেট টিভি চ্যানেলের সাথে জড়িত। পাশাপাশি লেখালেখি করে। প্রবাল-আর্বিটেক্ট, অস্ট্রেলিয়ায় থাকে। মেয়ে-কেকা ও কাকলী। গৃহবধূ, পাশাপাশি টেলিভিশনে বিভিন্ন প্রোগ্রাম করে থাকে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close