আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়স্লাইড

প্রত্যাশার চেয়ে বেশি রফতানি

ওমেনআই ডেস্ক : দেশের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাকের প্রসার ঘটাতে নতুন বাজারগুলোর দিকে বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে প্রচলিত বাজারে আশানুরূপ রফতানি না হলেও ১১টি প্রধান নতুন বাজারে তৈরি পোশাক রফতানি হচ্ছে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। নতুন বাজারের মধ্যে একমাত্র তুরস্ক ছাড়া অন্যগুলোতে রফতানিতে প্রবৃদ্ধি আকাশছোঁয়া।

নতুন বাজারে পোশাক রফতানি বৃদ্ধি এ শিল্পের জন্য খুবই ইতিবাচক দিক বলে মনে করছেন শিল্প উদ্যোক্তা ও বিশ্লেষকরা। সদ্যবিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক থেকে মোট রফতানি আয় করে ৩৪ বিলিয়ন ডলার, টাকার অঙ্কে যা ২ লাখ ৭৯ হাজার ৮৯২ কোটি ৮১ লাখ (প্রতি ডলার ৮২ টাকা হিসাবে)। পোশাকের একক সর্ববৃহৎ বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়েছে ৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। আর ইউরো জোনে রফতানি হয়েছে ২১ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক। এই দুই বাজারের বাইরে তৈরি পোশাক রফতানি খুব একটি বেশি নেই। এ কারণেই নতুন বাজারের খোঁজে নামেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। নতুন বাজারগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ায় বিগত কয়েক বছরে রফতানি বেড়েছে অনেক। মাত্র ৫ বছরে ১ বিলিয়ন থেকে নতুন বাজারে পোশাক রফতানি বেড়ে এখন হয়েছে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, তৈরি পোশাকের প্রধান ১১ নতুন দেশের মধ্যে আছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, চিলি, চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং তুরস্ক। এর বাইরেও কিছু ছোট দেশ নতুন বাজার হিসাবে রয়েছে। যেসব দেশের রফতানি আয় এখনও নগণ্য। সদ্য বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এসব নতুন বাজারে মোট তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে ৫ হাজার ৬৮৭ মিলিয়ন ডলারের। যা গত অর্থবছরে ছিল ৪ হাজার ৬৭০ মিলিয়ন ডলারের। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নতুন বাজারে পোশাক রফতানি বেড়েছে ১০০ মিলিয়ন ডলার বা ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, নতুন বাজারগুলোর মধ্যে পোশাক রফতানিতে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারতে। দেশটিতে পোশাক রফতানির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭৯ শতাংশ। আর পোশাক রফতানি হয়েছে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের। তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, কেবলমাত্র তৈরি পোশাক রফতানি বৃদ্ধির মাধ্যমেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব।

ইপিবি সূত্রে জানা যায়, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ৭ হাজার ৭৪৮ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের ৮৭৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার রফতানির বিপরীতে আমদানির পরিমাণ ৮ হাজার ৬২১ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

নতুন বাজারে তৈরি পোশাক রফতানি বৃদ্ধির বিষয়ে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহ-সভাপতি আরাশদ জামাল দিপু সময়ের আলোকে বলেন, একদিকে নতুন বাজারে রফতানিতে সরকারের ৪ শতাংশ প্রণোদনা, অন্যদিকে উদ্যোক্তাদের চেষ্টা এই দুইয়ের সমন্বয়ে নতুন বাজারে পোশাক রফতানি বাড়ছে। বাংলাদেশের নতুন বাজারের মধ্যে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে ব্রাজিল, চিলিতে রফতানি বাড়ছে। এর বাইরে দক্ষিণ আমেরিকার অন্য দেশগুলোর বাজার ধরতেও আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। আর্জেন্টিনা, পেরু এবং বলিভিয়ার মতো দেশে আমরা রফতানি বাড়ানোর চেষ্টা করছি। এ জন্য আগামী মাসের মাঝামাঝিতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির নেতৃত্বে একটি টিম যাচ্ছে ওই এলাকায়। এর মাধ্যমে ওই এলাকার দেশগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে। সবচেয়ে আশার কথা হচ্ছে, ইউরোপ-আমেরিকার অনেক নামি-দামি ব্র্যান্ড যেমন ওয়ালমার্ট, এইচঅ্যান্ডএম, জারার মতো করে দক্ষিণ আমেরিকার বড় বড় ক্রেতা ব্র্যান্ডগুলোও এখন বাংলাদেশে তাদের অফিস খুলছে। এতেই বোঝা যায়, তারা আমাদের দেশের বাজারের ব্যাপারে কতটা আগ্রহী।

নতুন বাজারে প্রবৃদ্ধির দিক দিয়ে এরপরই রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটিতে গত বছর পোশাক রফতানি হয়েছে ২৭৯ মিলিয়ন ডলারের, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৫ শতাংশ। তা ছাড়া চিলিতে প্রবৃদ্ধি ৪১ শতাংশ, রফতানি ১১১ মিলিয়ন ডলারের, দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবৃদ্ধি ৪০ শতাংশ, রফতানি আয় ১০২ মিলিয়ন ডলারের, মেক্সিকোতে প্রবৃদ্ধি ৩৭ শতাংশ, রফতানি আয় ২০৩ মিলিয়ন ডলারের, চীনে প্রবৃদ্ধি ২৯ শতাংশ, রফতানি আয় ৫০৬ মিলিয়ন ডলারের, জাপানে প্রবৃদ্ধি ২৮ শতাংশ, রফতানি আয় ১ হাজার ৯১ মিলিয়ন ডলারের, রাশিয়ায় প্রবৃদ্ধি ১৪ শতাংশ, রফতানি আয় ৪৮৮ মিলিয়ন ডলারের, অস্ট্রেলিয়ায় প্রবৃদ্ধি ১৩ শতাংশ, রফতানি আয় ৭১৯ মিলিয়ন ডলারের, ব্রাজিলে প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ, রফতানি আয় ১৬০ মিলিয়ন ডলারের। কেবলমাত্র তুরস্কে রফতানি কমেছে ২৭ শতাংশ। দেশটিতে পোশাক রফতানি হয়েছে ১৮৯ মিলিয়ন ডলারের। উদ্যোক্তারা জানান, তুরস্কের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) করার কারণেই দেশেটিতে রফতানি কমেছে। নতুন বাজারে পোশাক রফতানিতে মোট প্রবৃদ্ধি ২১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close