আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সারাদেশ

‘মুক্তিযোদ্ধা’ স্বীকৃতির আশায় বীরাঙ্গনারা

Birongona_ wmnওমেনআই: স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। জামুকার পঁচিশতম বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধাদের যে সংজ্ঞা প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে বীরাঙ্গনাদেরও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে জামুকার এই সিদ্ধান্ত এখনো প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সরকার প্রধানের অনুমোদন পেলেই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি পাবেন বীরাঙ্গনারা।

এতে আশায় বুক বাধছেন বীরাঙ্গনারা। এরপরও তাদের শঙ্কা স্বীকৃতি পাবেন তো? নাকি বিগত চার দশকের মতো বঞ্চনার শিকার হতে হবে তাদের।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক-হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের শিকার এই নারীদের সংগ্রাম শুরু সেই ৪৩ বছর আগে। এখনো পাননি কোনো স্বীকৃতি। সেদিন মন্ত্রণালয়ে আসা বীরাঙ্গনারা তাদের আশঙ্কার কথা বলেছেন ।

পারভীন খাতুন (৮৫) চোখ দুটি কোটরে ঢুকে গেছে। সাদা চুল, ময়লা শাড়ি। হাঁটেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। বয়সের ভার বাঁকা করে দিয়েছে মেরুদণ্ড।

‘বঙ্গবন্ধু কাগজ দিছিল। হারাইয়া ফালাইছি। থাকারই জায়গা নাই। কাগজ রাখমু কই? জীবনে বহু ঘোরাঘুরি করছি। কোনো লাভ অয় নাই। প্রধানমন্ত্রীর লগে দেখা কইরা একবার সাহায্য পাইছিলাম। এলাকার (ফার্মগেট) কিছু নেতার সাহায্য পাইছিলাম। স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নাই।’

ব্রাক্ষণবাড়িয়ার পারভীন খাতুনের কথায় যেন খই ফুটছিল। এত বয়সেও কোনো জড়তা নেই।

’৭১ সালের এক বিকেলে মাদারীপুরের টর্কিবন্দরে পাকহানাদারদের লালসার শিকার ফিরোজা বেগম কিছুদিন আগেও ঢাকার বিভিন্ন বাসায় আয়ার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এখন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে স্পেশাল ডিউটি করেন। একাত্তরের নির্যাতনের পরও বিধাতা যেন বাম ফিরোজা বেগমের প্রতি। যুদ্ধের পর বিয়ে করলে স্বামী মারা যান সড়ক দুর্ঘটনায়। ছেলে মেয়ে দুই সন্তানের মধ্যে ছেলেটিও টিকেনি। বয়সের ভার নিয়ে এসেছেন মন্ত্রণালয় থেকে যদি স্বীকৃতি পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, ‘অনেক ঘুরছি, কত মাইনষেরে টেকা খাওয়াইলাম। সবাই ধোকা দিছে। অহন শুনছি সরকার নাকি আমাগরে সম্মান দিব। নামডা যাতে থাহে, হের লাইগা মন্ত্রীর কাছে আইছিলাম।’

বীরাঙ্গনাদের মন্ত্রণালয়ে আসার বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক আশ্বাস দিয়ে বলেন, সরকার খুব গুরুত্ব দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করছে। এবারের তালিকায় একাত্তরে আমাদের যে সব মা-বোন নির্যাতিত হয়েছেন তারাও স্বীকৃতি পাবেন।

দেশবাসীর প্রতি বীরাঙ্গনাদের প্রকৃত সম্মান দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘একাত্তরে আমার-আপনার মা বোনও তো নির্যাতনের শিকার হতে পারতেন। তাই নির্যাতিত এ সব মা-বোনদের কেউ ঘৃণার চোখে দেখবেন না।’

জামুকা নির্ধারিত মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা অনুযায়ী, ‘লাল মুক্তিবার্তা, ভারতীয় তালিকা, প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত সনদ, মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের বাইরে যুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে অবদানকারী, সশস্ত্র বাহিনী, ইপিআর, আনসার, মুজিবনগর সরকারের এমএন ও এমপিএ, পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে নির্যাতিত নারী (বীরাঙ্গনা), স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও কলাকুশলীরা, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা, মুক্তিযুদ্ধকালীন আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসক নার্স ও সহকর্মী, মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের অধীনে অফিসসমূহের দাফতরিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি, স্বাধীনতার পক্ষের সাংবাদিকরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ঢাকা, ১০ নভেম্বর (ওমেনঅাই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close