আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
স্বাস্থ্য

জেনে নিন প্রস্রাবে প্রদাহ: সমস্যা ও সমাধান

rogওমেনআই: বয়ঃসন্ধির পর থেকে বৃদ্ধ বয়সের যেকোনো সময়ে প্রস্রাবে প্রদাহ সমস্যা হতে পারে। এর মূল উৎস হচ্ছে অপরিচ্ছন্নতা, দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা, পায়ুনালী, ঘন ঘন কৃমির সংক্রমণ, এছাড়া সহবাসের কারণে মূত্রনালীতে জীবাণু প্রবেশ করতে পারে। পায়ুনালী থেকে ই-কোলাই নামক জীবাণু কর্তৃক শতকরা ৭০-৮০ ভাগ প্রস্রাবের প্রদাহ হয়ে থাকে।

অন্যান্য জীবাণুর মধ্যে প্রোটিয়াস, কেবসিয়েলা ও সিওডোমনাসের নাম উল্লেখযোগ্য। স্টেফাইলোকক্সাস স্কোরোফাইটিকাস নামক জীবাণু মেয়েদের ১৫ থেকে ৩০ ভাগ প্রস্রাবের কারণ।

জীবাণু প্রস্রাবের পথে প্রবেশের পর মূত্রথলিতে এসে জমে এবং মূত্রনালী দিয়ে ক্রমেই কিডনি পর্যন্ত যেতে পারে। প্রস্রাবে প্রদাহের প্রথম কারণ হচ্ছে জীবাণু প্রস্রাবের রাস্তায় জমা হতে পারে। তবে যেকোনো কারণে প্রস্রাবের রাস্তায় জীবাণু জমতে পারে এবং সেখান থেকে মূত্রথলিতে আসতে পারে।

এ জীবাণু মূত্রথলিতে প্রবেশ করার পর প্রস্রাবের প্রদাহ হবে কি না তা নির্ভর করছে অনেকগুলো কারণের ওপর। এর মধ্যে মূত্রথলির প্রতিরোধ শক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মূত্রথলির ভেতরের দেয়ালে ইমিউনো গ্লোবিউলিন নামক একটি স্তর রয়েছে, যে জন্য জীবাণু মূত্রথলির কোষের সাথে সংযুক্ত হতে পারে না।

প্রস্রাব এমনিতেই এসিডিক, এ এসিডের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় থাকলে জীবাণু বাড়তে পারে না। শুধু তা-ই নয়, পরিমিত পানি খেলে প্রতিবার প্রস্রাবের মাধ্যমে মূত্রথলির ভেতর থেকে জীবাণু বের হয়ে যায়।

মূত্রথলির প্রদাহের উপসর্গ হচ্ছে, বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া, প্রস্রাব করার সময় জ্বালা অনুভূত হওয়া, মাঝে মধ্যে তলপেটে ব্যথা হওয়া, কখনো কখনো পরিমাণে কমে গিয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় প্রস্রাব হওয়া।

এ সমস্যা সৃষ্টি হলে প্রস্রাবের রঙ ধোয়াটে ও দুর্গন্ধযুক্ত হতে পারে। তবে একটি ব্যাপার খুবই লক্ষণীয়, তাহলো প্রস্রাব করে আসার পরপরই আবার প্রস্রাবের বেগ অনুভব করা।

এই প্রদাহ ক্রমে কিডনিকেও আক্রান্ত করতে পারে। এ অবস্থায় নাভির দু’দিক থেকে পেছন পর্যন্ত ব্যথা ছড়াতে পারে। কেঁপে কেঁপে জ্বর আসতে পারে। প্রস্রাবের রঙ রক্তবর্ণও হতে পারে। খাওয়ায় অরুচি, মাথা ঘোরানো, বমি বমি ভাব, সমস্ত শরীর ব্যথা ইত্যাদি হতে পারে।

বাসররাতের পর অথবা তারও দু-এক সপ্তাহ পর নববিবাহিত মেয়েরা মূত্রথলির প্রদাহে আক্রান্ত হতে পারে, একে হানিমুন সিস্টাইটিস বলে। অবশ্য প্রস্রাবের প্রদাহ ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের বেশি হয়। তবে শতকরা প্রায় ৬০ ভাগ মহিলা বিশেষ করে যৌন সক্রিয় বয়সে এ রোগে আক্রান্ত হয়।

এর কারণ হচ্ছে মহিলাদের মলত্যাগের রাস্তা ও প্রস্রাবের রাস্তার মধ্যে দূরত্ব অনেক কম। কাজেই জীবাণু পায়ুনালীর রাস্তা থেকে প্রস্রাবের পথে সহজেই প্রবেশ করতে পারে।

রোগের বিস্তারিত ইতিহাস, লক্ষণ, উপসর্গ ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সাহায্যে সঠিক রোগ নির্ণয় করা সম্ভব। প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা, কালচার করে জীবাণু নির্ণয় করা হয়।

এ কালচার করার দুটি দিক আছে, একটি জীবাণু বিঘ্নিতকরণ ও অপরটি এই বিঘ্নিত জীবাণুটির বিরুদ্ধে সঠিক ওষুধ বাছাই করা।

এমন অনেক মহিলা আছেন, যাদের প্রায়ই প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া ও ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়ার উপসর্গ থাকে এবং এদের প্রস্রাব পরীক্ষা করলে শুধু শ্বেতকণিকা পাওয়া যেতে পারে।

কিন্তু প্রস্রাব কালচার করলে কোনো জীবাণু পাওয়া যায় না, আর যদি জীবাণু পাওয়াও যায় তার পরিমাণ খুবই কম থাকে। মহিলাদের এ অসুবিধাকে ইউরেথ্রাল সিনড্রোম বলা হয়।

বর্তমানে এ ইউরেথ্রাল সিনড্রোম সম্বন্ধে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর দেখা গেছে, এর শতকরা ৩০ ভাগ ক্ষেত্রে কোনো প্রদাহ থাকে না। এক্ষেত্রে কোনো চিকিৎসার খুব একটা প্রয়োজন হয় না। শুধু ব্যথার ওষুধ ও সান্ত্বনার মাধ্যমে চিকিৎসা করা যেতে পারে।

কিন্তু বাকি ৭০ ভাগ সত্যিকারের প্রদাহ থাকে। যার কারণে রেচনতন্ত্রের যক্ষ্ম, টিউমার ইত্যাদি হতে পারে। এছাড়া ছত্রাক ও কামাইডিয়া কর্তৃক প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। কোনো রকম জটিলতা ছাড়াও মেয়েদের বারবার প্রদাহ হতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা।

ঢাকা, ১১ নভেম্বর (ওমেনঅাই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close