আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
শিল্প-সংস্কৃতি

২০তম কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব

ShowImage.ashxওমেনআই:শুরু হলো ২০তম কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব৷ কলকাতার নেতাজী ইনডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা নচিকেতার‘থিম সং’দিয়ে চলচ্চিত্র উৎসবের আনুষ্ঠানিক পর্দা ওঠে৷ প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসবের সূচনা করেন রাইমা, অমিতাভ বচ্চন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঐশ্বরিয়া রাই, অভিষেক ও জয়া বচ্চন৷ এবারের উৎসবের থিম হলো- ‘উইমেন সাবটেন্স ইন সিনেমা’। প্রথমবারের মতো উৎসবে মহিলা পরিচালকদের সিনেমা নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবে বাংলাদেশ থেকে যোগ দিয়েছেন জয়া আহসান ও তানিশা৷

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অমিতাভ বচ্চন। বিভিন্ন দেশের ১৩৭টি ছবি দেখানো হবে এবারের চলচ্চিত্র উৎসবে। ৭ দিনের উৎসবে ১২টি প্রেক্ষাগৃহে দেখানো হবে ছবিগুলো।এতে ৩১টি ভারতীয় ছবি স্থান পেয়েছে। ইতালিরপরিচালক আলাসিয়া সার্কোর ছবি ইতালো বারোক্কো দিয়েই শুরু হবে এবারেরচলচ্চিত্র উৎসব।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অমিতাভ বচ্চন ও ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর শাহরুখ খান রয়েল বেঙ্গল অ্যাওয়ার্ড উদ্বোধন করেন। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লোগো উদ্বোধন করেন ইরফান খান ও অভিষেক বচ্চন। উৎসব থেকে মোমের মূর্তির মিউজিয়াম মাদার’স ওয়্যাক্স মিউজিয়াম উদ্বোধন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গতবারের কথা রেখে পশ্চিমবঙ্গের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার শাহরুখ খান বাংলায় বললেন, ‘কলকাতা আমার প্রাণের শহর, তাই কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব আমার প্রিয় উৎসব। এখানকার রসগোল্লা, সন্দেশ, পান্তুয়া আমার প্রিয় খাবার। আসুন আমরা সকলে এই উৎসবকে সফল করে তুলি।’

অমিতাভ বাংলা চলচিত্র তথা ভারতীয় সিনেমার ১০০ বছরের পথচলার ইতিহাস বর্ণনা করেন। বলেন কীভাবে মেয়েরা সাহসিকতার সঙ্গে পোশাক, অভিনয় দক্ষতা ও সঙ্গীতে জায়গা করে নিচ্ছে। একেকটা দশকের উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। ষাট-সত্তরের দশকে বাংলা সিনেমার বেশিরভাগই মধ্যবিত্ত সহজ-সরল সাহিত্য থেকেই অনুপ্রাণিত হতো। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্য থেকে নেওয়া হতো গল্প ও চরিত্র, যেমন- দেবদাস ও বিরাজ বউ। মৃণাল সেনের নীল আকাশের নিচে, ঋত্বিক ঘটকের মেঘে ঢাকা তারা ও সুবর্ণরেখা বাংলা সিনেমার ব্রেকিং। সত্যজিৎ রায়ের পথের পাঁচালিতে সর্বজয়ার চরিত্র, তপন সিনহার ছবি আদালত ও একটি মেয়ে, নির্জন সৈকতে’র অভিনেত্রীরা অন্যদের প্রেরণা ও সাহস যুগিয়েছে। অপর্ণা সেন, ঋতুপর্ণ ঘোষ ও গৌতম ঘোষের মতো পরিচালকরাও নারী চরিত্রনির্ভর ছবি করেছেন। ভারতীয় সিনেমার মেয়েদের লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেন তিনি। বক্তৃতা শেষে গুপী গাইন বাঘা বাইনের থিম আঁকা চাদর উত্তরীয় সন্মান পেয়ে অমিতাভ বলেন, চাদরটি পরে খুবই ভালো লাগছে। স্বামী অমিতাভের কথা শুনে স্ত্রী জয়া বচ্চনের চোখে পানি আসে।

কলকাতার জামাইবাবু অমিতাভ বচ্চন আরও বলেন, আপনাদের জামাইবাবুর নমস্কার। আমি জামাইবাবু ধন্যি মেয়ে জয়া, পুত্র, বৌমা ও নাতনিকে নিয়ে আপনাদের উৎসেব এসেছি। আমি কলকাতায় ৭ বছর কাটিয়েছি। বাংলায় গাইলেন, পুরনো সেই দিনের কথা।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এত সম্মানীয় ব্যক্তিকে উৎসবে পেয়ে আমি আপ্লুত। তিনি বলেন, ভারতীয় সিনেমার কথা ভেবে পশ্চিমবঙ্গে দুটো ফিল্মসিটি তৈরি করা হচ্ছে। আরও বলেন, একদিন সময় করে অমিতাভ বচ্চনের ‘পিকু’ সিনেমার শুটিং দেখতে যাব।

সুচিত্রা সেনকেবিশেষ সম্মান জানানো হচ্ছে এই উৎসবে৷ তার অভিনীত ৭টি ছবি দেখানো হবে৷ ছবিগুলো হলো- অগ্নিপরীক্ষা, উত্তর ফাল্গুনী,দেবদাস,আঁধি,হারানো সুর ওমেঘ কালো।

চলচ্চিত্র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- অস্ট্রেলিয়ান পরিচালক পল ককসকে, দীপিকা পাড়ুকোন,ফারহান আখতার, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, পরিচালক সন্দীপ রায়, অভিনেতা ও সাংসদ দেব, ইন্দ্রানী হালদার, সায়ন্তিকা, হিরন এবং মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়৷ কলকাতার অদূরে নিউটাউনে নজরুল তীর্থে উৎসব শেষ হবে৷ সে দিন উপস্থিত থাকবেন রানী মুখার্জি ও ফারহা খান৷

ঢাকা, ১১ নভেম্বর (ওমেনঅাই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close