আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
ক্যারিয়ার/জব সার্চ

সাক্ষাৎকার দিতে মনোবল দৃঢ় করার কৌশল

Interviewওমেনআই: ‘ইন্টারভিউ’ বিষয়টাকে অনেকে পরীক্ষা হিসেবে ভাবেন অনেকে আবার খেলা হিসেবে। যে কোনো ভালো ক্রিকেট ম্যাচের কথা ভেবে দেখুন, কত ধরনের প্রস্তুতি থাকে খেলা শুরুর আগে থেকে খেলার শেষ বল পর্যন্ত। প্রয়োজন হয় মানসিক ও শারীরিক দৃঢ়তার।

ফোনে, ই-মেইলে অথবা চিঠিতে যখন আপনার ডাক আসে কাঙ্ক্ষিত চাকরির জন্য একটি মৌখিক পরীক্ষার, তখন শুরুতেই বুকে দুরু দুরু একটা অনুভূতি হয়, তাই না? একদিকে মনের ভেতর স্বপ্নগুলো ভাসতে থাকে, অন্যদিকে নিজের ভেতর একটা ভয় কাজ করে। এ ভয় দূর করে কিভাবে আপনি আপনার মনোবল দৃঢ় করবেন সে সম্পর্কে কিছু টিপস দেয়া হলো ।

আপনি এদিন যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন-

# আপনার পোশাক ও সাজঃ
নারীরা অবশ্যই চেষ্টা করবেন ফরমাল পোশাক পরতে। শাড়ি বা থ্রি-পিস যাই পরুন, ম্যাচিংয়ের দিকে গুরুত্ব দেবেন, খুব জমকালো কিছু পরবেন না। অলংকার পরবেন অবশ্যই মার্জিত ধরনের। মেকআপ নেবেন কিন্তু পার্টি মেকআপ নয়।

পুরুষরা অবশ্যই ফরমাল শার্ট-প্যান্ট পরবেন। টাই বা স্যুট পরতে পারেন। চাকরিটি সেলস বা মার্কেটিং হলে স্যুট-টাই যতটা জরুরি, ইঞ্জিনিয়ারিং হলে ততটা নয়। লক্ষ রাখবেন, পোশাকের রঙ যা-ই হোক, তা যেন আপনাকে মানায়।

একই পোশাকে কাউকে দারুণ দেখায়, কাউকে বিশ্রী। কাজেই পোশাক নির্বাচনে রুচির ছাপ রাখুন। এমন কোনো পোশাক পরবেন না, যা আপনি আগে পরেননি।

# প্রস্তুতিঃ
ইন্টারভিউ পরীক্ষার মতোই কাজেই তার পূর্বপ্রস্তুতি অবশ্যই প্রয়োজন। কী প্রশ্ন আপনাকে করা হতে পারে, তা আগে থেকে আন্দাজ করার চেষ্টা করুন।

অভিজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে একটা সাজেশন তৈরি করুন এবং তার উত্তরগুলো আত্মস্থ করুন। আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকলে বাসায় বেশি করে অনুশীলন করতে পারেন এবং দেখুন আপনার উন্নতি। কাজেই খেলা, পরীক্ষা এবং জীবনের প্রতিটা সময়ে এর একটা মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি অবশ্যই প্রয়োজন।

# ‘ইন্টারভিউ’ এর শুরুর প্রশ্নঃ
Can you please describe yourself in brief?– অধিকাংশ ইন্টারভিউ শুরু হয় এ প্রশ্ন দিয়ে। কাজেই নিজেকে উপস্থাপন করতে ৫-৬টি বাক্যে নিজেকে সংক্ষেপে বর্ণনা করা অনুশীলন করুন।

আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন, চাকরির পূর্ব অভিজ্ঞতা ও সেখানে কোনো বিশেষ অর্জন, চাকরির বিষয়ে আপনার আগ্রহের বিশেষ কারণ, আপনার সবচেয়ে বড় গুণ এ জাতীয় কিছু তথ্য দিয়ে আপনার সম্পর্কে ৫-৬টি বাক্য তৈরি করুন।

যা বলার হাসিমুখে এবং প্রশ্নকারীর চোখের দিকে তাকিয়ে বলবেন। আত্মবিশ্বাস দেখান প্রথম কথা থেকে।

# আপনার ব্যাকগ্রাউন্ডঃ
আপনি যে বিষয়ে লেখাপড়া করেছেন, তার সঙ্গে যদি চাকরিটি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহলে অবশ্যই বেশ কিছু থিউরিটিক্যাল প্রশ্ন করা হবে। যদি আপনি ফ্রেশ গ্রাজুয়েট হন, তাহলে ইন্টার্নশিপ বা রিসার্চ (শেষ বর্ষে যেটা করতে হয়েছে), তা নিয়ে কিছু পড়াশোনা করে রাখুন।

আপনি যদি চাকরিরত হয়ে থাকেন, তাহলে বর্তমান চাকরিতে কী করছেন এবং চাকরির সঙ্গে তা কিভাবে সম্পৃক্ত এ নিয়ে আপনাকে প্রশ্ন করা হবে নিশ্চিত।

যদি এমন হয় যে, আপনি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের চাকরি চাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে আপনার বহুমাত্রিক প্রতিভার কিছু উদাহরণ উপস্থাপন করুন। যে কোনো কাজ আপনি দ্রুত শিখতে পারেন, সেটা প্রমাণ করার চেষ্টা করুন।

# আপনার আগ্রহঃ
যে প্রশ্নটি অবশ্যই করা হবে, তা হলো আপনার কেন এ চাকরির জন্যে নিজেকে যোগ্য মনে হয়?

আপনার অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা ও আগ্রহ কিভাবে এ চাকরির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং আপনি কোন দিক দিয়ে অন্য যে কোনো প্রার্থী থেকে এখানে ভালো করবেন, তা আগে থেকে বিশ্লেষণ করে উত্তর তৈরি করুন। প্রয়োজনে, উত্তরগুলো কাগজে লিখে বাড়িতে মুখস্থ বলার চর্চা করুন।

এ চাকরি সম্পর্কে কতটুকু আগ্রহ আছে তা জানতে একটি প্রশ্ন করার জন্য চাকরিদাতা জানতে চাইবেন, এ প্রতিষ্ঠান, চাকরির ধরন সম্পর্কে আপনি কতটুকু জানেন? এর উত্তর জানার জন্য আপনি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ঘেঁটে আগে থেকেই জেনে নিন তাদের পণ্য ও ব্যবসার ধরন। তাদের পার্টনার, কাস্টমার কারা ইত্যাদি জেনে রাখুন বিশদভাবে।

আপনি যদি একটু বেশি স্মার্ট হন, তাহলে খুঁজে বের করতে পারেন ওই প্রতিষ্ঠানের এমন কাউকে, যিনি আপনাকে ধারণা দিতে পারবেন, চাকরিটা পেলে আপনাকে কী কী কাজ করতে হবে। ইন্টারভিউতে যদি আপনি প্রমাণ করতে পারেন, চাকরিটা পাওয়ার আগে থেকেই কাজটি আপনি কিছুটা জানেন, তাহলে আপনি অন্য প্রতিযোগীদের তুলনায় এগিয়ে থাকবেন অনেক বেশি।

# যেগুলো করা উচিত নাঃ
হুট করে না ঢুকে অনুমতি নিন রুমে প্রবেশের আগে, সালাম দিন এবং বসতে বলার আগ পর্যন্ত বসবেন না। বিদেশি কেউ থাকলে কখনোই বাংলায় কথা বলবেন না।

ইংরেজি প্রশ্নের উত্তর বাংলায় দেবেন না। এমন কোনো যোগ্যতার কথা বলবেন না, যা আপনার জানা নেই। প্রশ্নের উত্তর মনে করতে নখ, আঙুল বা কলম মুখে দেবেন না, মাথা চুলকাবেন না, চোখ ছোট ছোট করে কারো দিকে তাকাবেন না।

হেসে বলুন, ‘Sorry’ বা ‘I Can’t give you the right answer at this moment.’ সব সময় এটাই বোঝাবেন যে, আপনি এখন যে বেতনের চাকরি করছেন, আপনার কাংক্ষিত বেতন তার অনেক বেশি হওয়া উচিত।

কারণ, আপনি আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন না। চাকরিদাতা সবসময় প্রমাণ করতে চাইবে, আপনি আপনার প্রাপ্যের চেয়ে অনেক বেশি বেতন চাইছেন। কাজেই তার কথায় confused বা convinced হবেন না। (ইন্টারভিউতে যাবার আগে জেনে যাবার চেষ্টা করুন এই পদে বা এর কাছাকাছি যারা কাজ করেন, তারা কী রকম বেতন পান।)

# আপনার যোগ্যতাঃ
১০-২০ মিনিটের সাক্ষাৎকারে এটা বোঝা বেশ কঠিন যে আসলে কে সবচেয়ে বেশি যোগ্য। কম সময়ে ইন্টারভিউ শেষ হলে বুঝতে হবে আপনার পেছনে তারা সময় নষ্ট করতে চাইছেন না (ফলাফল নেতিবাচক)।

প্রশ্নকারীর মনোযোগ সেই দিকে কেন্দ্রীভূত করুন, যেখানে আপনার দক্ষতা বেশি। ধরা যাক, প্রশ্নকর্তা চাইছেন আপনি সেলসে কতটুকু দক্ষ, তা যাচাই করার। কিন্তু আপনার বিক্রয় বা বিপণন নিয়ে কোনো অভিজ্ঞতা নেই। সে ক্ষেত্রে, আপনি উদাহরণ দিতে পারেন আপনার বাকপটুতার; যেমন, বন্ধুমহলে সবাই আপনাকে যে কোনো বিষয়ে গুরু মানে, যে কোনো বিতর্কে আপনি জয়ী হন, কারণ প্রতিপক্ষকে যুক্তিতর্ক দিয়ে পরাস্ত করতে পারেন।

কখনো আবার ইন্টারভিউ কয়েক ধাপে হয় এবং সব সময় লক্ষ রাখবেন পূর্বের ধাপের চেয়ে পরের ধাপে একটু বড় কর্মকর্তা থাকেন ইন্টারভিউ বোর্ডে। তাই প্রশ্নও কঠিন থেকে কঠিনতর হতে পারে।

ঠাণ্ডা মাথায় নিজের সবটুকু মেধা ও ধৈর্য ব্যবহার করে আপনাকে একটার পর একটা স্টেজ পার হতে হবে। ভালো চাকরি পাওয়া খুব সহজ নয়। সব সময় মনে রাখবেন অবশ্যই আপনাকে কঠোর পরিশ্রম করে সেটা অর্জন করতে হবে।

ঢাকা, ১১ নভেম্বর (ওমেনঅাই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close