আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়

‘চাকরির জন্য লোকজনকে ধরাধরি করা অবমাননাকর’

hasinaওমেনআই: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘শিক্ষা সমাপনের পর চাকরির জন্য এখানে সেখানে লোকজনকে ধরাধরি করা শিক্ষিত লোকজনের জন্য অবমাননাকর। আমরা চাই না আমাদের যুবসমাজ তাদের চাকরির জন্য এখানে সেখানে ঘুরাফেরা করুক। অন্যের ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে আমাদের যুবসমাজ স্ব-উদ্যোক্তায় পরিণত হোক, নিজের পায়ে দাঁড়াক এবং অন্যের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করুক।’
রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তাদের সম্মেলনে আয়োজিত এক ভাষণে মঙ্গলবার এ কথা বলেন।

ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র (ইউআইএসসি) হিসেবে পরিচিত চার হাজার ৫০০ ডিজিটাল সেন্টারের প্রায় ১১ হাজার উদ্যোক্তা এ সম্মেলনে যোগ দেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব এম মঞ্জুর হোসেনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এবং ইউএনডিপি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর পাওলিন তামেসিস বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান শিকদারও বক্তৃতা করেন। এতে স্বাগত বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এটুআই কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার। এ ছাড়া রাঙামাটি সদরের পক্ষে বিকাশ চাকমা ও রংপুর সদরের আরিফুজ্জামান তাদের অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি ব্যক্তিকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করার লক্ষ্যেই ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। নিজের পায়ে দাঁড়ানো শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ থাকবে না- আমরা আমাদের বেকার যুবকদের জন্য এমন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব যাতে তারা বিদেশে গিয়েও কর্মসংস্থান করতে পারে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের তরুণরা কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে এখন জামানতবিহীন এক লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ এবং তাদের নিজস্ব ব্যবসা শুরু করতে পারে। ভবিষ্যতে এই ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে দু’লাখ টাকা করা হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ডিজিটাল সেন্টারের এ সকল উদ্যোক্তাদের উচ্ছেদ করার কিছু হীনচক্রান্ত চলছে। এ সকল ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের সরানো হবে না। তারা তাদের নিজ নিজ স্থানে বহাল থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে পৌরসভা মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি জানিয়ে বলেন, ‘এ সকল ডিজিটাল সেন্টারে কেউ কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করবেন না।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রাজধানীতে প্রধান হাই-টেক পার্কের পাশপাশি দেশের প্রতিটি জেলায় হাই-টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধান হাই-টেক পার্ক প্রতিষ্ঠিত হবে ঢাকায় এবং প্রতিটি জেলায় আমরা এ ধরনের পার্ক নির্মাণ করব।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার ইন্টারনেটের স্পিড বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতে হাইস্পিড ইন্টারনেট পাওয়া যাবে।
এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্প অনুমোদনের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এতে ডিজিটাল সেবা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আমরা শিগগিরই এ প্রকল্পের কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। এ বিশাল প্রকল্পের দরপত্র আহবানের প্রক্রিয়া চলছে।’
প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালের আগে দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত এবং মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশে পরিণত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘একটি বিজয়ী জাতি হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানসহ সকল ক্ষেত্রে দেশ আরও সমৃদ্ধি অর্জন করবে।’
খবর : বাসস

ঢাকা, ১১ নভেম্বর (ওমেনঅাই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close