আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
বিনোদন

শাওনের স্মৃতিতে নন্দিত হুমায়ূন

saon wmn 13.11.14-ahamed-6ওমেনআই: হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে লেখাটা আমার জন্য সহজ না। লেখতে বসলেই মাথায় ভর করে নানা স্মৃতি। যেহেতু জন্মদিন তাই হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনের উপহার নিয়ে কিছু লেখা যেতে পারে। হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে নানা ধরণের উপহারই মানুষ তাকে দিতেন। জামা-কাপড়, কলমসহ আরো অনেক কিছু।

যেমন অনেকেই তাকে লেখক বলে দামি দামি কলম গিফট করতেন জন্মদিনে। কিন্তু মজার বিষয় হলো যে, ঐ সব দামি কলমে তিনি কখনোই লেখতেন না। তিনি লেখতে পছন্দ করতেন কম দামি তিন টাকা দামের বল পয়েন্ট কলম দিয়ে। কিন্তু দেখা গেছে যে, তিনি লেখার সময় প্রায় কলম খুঁজে পেতেন না। এ কারণে মাঝে মধ্যে প্রায় ১৫ থেকে ২০টা করে বল পয়েন্ট কলম একসঙ্গে কিনে রাখতেন। সেগুলোও হারিয়ে যেত। আবার কিনতে হতো।

আমি একবার হুমায়ূন আহমেদকে একটি গিফট দিয়েছিলাম তার জন্মদিনে। এ কথাটা আমি আগেও বলেছি। আমি তার জন্য একটি জন্মদিনের ক্যালেন্ডার বানিয়েছিলাম। তার সৃষ্টি চরিত্র, যেমন হিমু, শুভ্র, মিসির আলী এ ধরণের চার পাঁচটা চরিত্রের রূপে নিশাদকে সাজিয়ে আমি ফটোগ্রাফির মাধ্যমে ক্যালেন্ডারটা তৈরি করি। এক বছরের একটি ক্যালেন্ডার। হুমায়ূন আহমেদ ঐ গিফট পেয়ে বলেছিলেন এটা আমার জীবনের সবচে সেরা জন্মদিনের উপহার। এ ধরেনর একটু আজগুবি উল্টা পাল্টা গিফট তিনি পছন্দ করতেন। যেটার মাঝে ক্রিয়েটিভ কিছু থাকবে। যা তাকে অবাক করবে।

এত গেল তার জন্মদিনের উপহারের কথা। এবার একটু অন্য কথা বলি। তিনি যে মানুষকে উপহার দিতেন তা ছিল একেবারেই আলাদা। হুমায়ূন আহমেদের অনেক বন্ধু আসতেন আমাদের বাসায়। একবার তার এক বিখ্যাত বন্ধু আসলেন। আমি বিখ্যাত বন্ধুটির নাম বলতে চাচ্ছি না। তো তিনি দেয়ালে টাঙানো একটা পেইন্টিং দেখে বললেন, ‘আরে এটা তো খুব সুন্দর’। হুমায়ূন আহমেদ তখনই লোক ডেকে, বললেন, এই পেইন্টিংটা ওনার গাড়িতে দিয়ে আসো। এরকম বহু পেইন্টিং তিনি মানুষকে দিয়েছেন। একবার কি হলো, একজন বলল, আরে হুমায়ূন ভাই আপনার হাতের গড়িটা তো খুব সুন্দর, তখনই তিনি গড়িটা খুলে তাকে দিয়ে বললেন, এই নাও, এটা তোমার। ঐ লোক তো অবাক। নিজের পরনের শার্টও খুলে দিয়েছেন তিনি, এমন রেকর্ডও আছে। আমি একবার তার জন্মদিনে এক সেট কাঁচের গ্লাস, পেয়ালা মগ উপহার দিলাম। হালকা সবুজ কাঁচের উপর রিকশা পেইন্ট করা। বেশ সুন্দর ছিল জিনিসগুলো। তো একদিন আমাদের বাসায় এসেছেন এস আই টুটুল। আমি কি যেন মনে করে ঐ দিন ঐ কাঁচের জিনিসগুলোতে চা নাস্তা দিয়েছি। ওমনি এস আই টুটুল বললেন, আরে স্যার, জিনিসগুলোতে খুব সুন্দর। হুমায়ূন আহমেদ তখন বললেন তুমি এগুলো নিতে চাও। টুটুল বললেন হ্যাঁ। আমি জানি এরপর কি হবে। তাই ইশারায় জিনিসগুলো দিতে মানা করছিলাম। কারণ আমি অনেক শখ করে জিনিসগুলো তার জন্য কিনে এনেছি। আর এমনিতে মেয়েরা তার সংসারের জিনিস হারাতে চায় না। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদ ঐ কাঁচের জিনিসগুলো এস আই টুটুলকে দিয়ে দিলেন। ওনার কোন জিনিস কারো পছন্দ হলেই দিয়ে দিতেন। আমি মনে করি যারা ওনার জিনিস নিতে পেরেছেন তারা অনেক ভাগ্যবান।

ঢাকা, ১৩ নভেম্বর (ওমেনআই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close