আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
স্বাস্থ্য

মেয়েদের হার্ট অ্যাটাক

heart 20.11.14ওমেনআই: পুরুষদেরই যে শুধু মাত্র হৃদপিণ্ডের সমস্যা হয় এটা কিন্তু নয়, একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর নারীদেরও হৃদপিণ্ডের সমস্যা হয়ে থাকে। আমরা বেশির ভাগ সময়েই পুরুষ মানুষের হৃদপিণ্ডের সমস্যা সম্পর্কে অহরহ শুনে থাকি। কিন্তু নারীদের শরীরেও নানাবিধ শারীরিক সমস্যার মধ্যে হৃদপিণ্ডের সমস্যাটিও এখন অনেক বেশি পরিমানে দেখা দিয়েছে। নারীদের হৃদপিণ্ডের অসুখ সম্পর্কিত কিছু তথ্য আজ বিডি লাইভ পাঠকদের জন্য দেয়া হলো।

হার্ট অ্যাটাক কী
হঠাৎ করেই আক্রান্ত হয় মানুষের হার্ট অর্থাৎ হৃদপিণ্ড। চিরকালের জন্য বিকল হয়ে যেতে পারে পেশিবহুল এই পাম্পটি। হৃদযন্ত্রের পেশিতে যেসব ধমনি রক্ত সরবরাহ করে তাদের বলে করোনারি আর্টারি। এই করোনারি আর্টারি কোনো কারণে ব্লক হয়ে গেলে হৃদযন্ত্রের পেশির যে অংশটিতে রক্ত সরবরাহ হচ্ছে সেটি নষ্ট হয়ে যায়।

আর্টারি ব্লক হওয়ার জন্য হৃদযন্ত্রের পেশির কিছু অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়াকেই হার্ট অ্যাটাক বলে। হৃদযন্ত্রের করোনারি আর্টারিতে চর্বি জমা হয়ে আর্টারিতে আংশিক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে।

তার সাথে রক্ত জমাট বাধলে কিংবা স্পেজম হলে আর্টারি ব্লক হয়ে যায়। এই ব্লকের সময়সীমা যদি ২০ থেকে ৩০ মিনিট থাকে তাহলেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায়। তবে ব্লক যদি ওই সময়ের মধ্যে খুলে যায় তাহলে রোগী মতো বেঁচে যেতে পারে।

কোন বয়সে হার্ট অ্যাটাক হয়
একটু বেশি বয়স হলে নারীদের হৃদপিণ্ডের সমস্যা হয়। মেনোপজের(পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যাওয়া) পর নারীরা এই রোগে আক্রান্ত হন বেশী। কারণ এই সময় নারীদের শরীরে প্রজেস্টেরন এবং এস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা অনেক কমে যায়। তখন পুরুষ ও নারীদের হার্ট অ্যাটাকের অনুপাত একই হয়ে যায়।

যা করবেন হার্ট অ্যাটাকের বিরুদ্ধে
পুরুষ এবং নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই হৃদপিণ্ডের রোগের প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপ, হাই কোলেস্টোরল, রোগের বংশগত ধারা, বয়স এবং ধূমপান। এক মুহূর্ত ভেবে দেখুন আপনার লাইফস্টাইল, বংশের ধারা, সাধারন স্বাস্থ্য কেমন। প্রথম থেকেই সুস্থ জীবনযাপনের তালিকা মেনে চললে হৃদপিণ্ডের সমস্যা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। সঠিক খাওয়া-দাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম, ঠিকমতো ঘুমানো এসব সাধারন নিয়ম মেনে চললেই ভালো হার্ট পেতে পারেন।

ধূমপান করবেন না
যদিও আমাদের দেশের মহিলাদের ধূমপানে আসক্ত হতে কম দেখা যায় তারপরও জেনে রাখা ভালো যে হার্ট অ্যাটাক এর অন্যতম কারন হল ধূমপান। ৫০ বছরের নিচে যতো মহিলাদের হার্ট অ্যাটাক হয় তার অর্ধেকেরও বেশির জন্যে দায়ী ধূমপান।

যদি ধূমপান করেন, তবে বন্ধ করে দেন তাহলে ২ বছরের মধ্যেই আপনার হার্ট অ্যাটাকের সম্ভবনা অনেক কমে যাবে। এমনকি পুরুষ ধূমপায়ীদেরও হৃদপিণ্ডের এবং ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অতএব এসব থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখুন
উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রনে রাখুন। কারন তা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক প্রতিরোধ করে। ওজন কমান প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং সুষম খাবার খান, লবন কম খান। এসব করার পরেও যদি আপনার উচ্চ রক্তচাপ স্বাভাবিক না থাকে তাহলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন অতি দ্রুত।

ওজন নিয়ন্ত্রণ
অতিরিক্ত ওজন আপনার হার্ট এবং ধমনীর উপর চাপ ফেলে। ব্যায়াম এবং লো ফ্যাট ডায়েট আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে। অতিরিক্ত ওজনের ফলে নানা ধরনের জটিল অসুখ শরীরে বাসা বাঁধে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চরক্ত চাপ, এবং হৃদপিণ্ডের সমস্যা হয়।

বুকে ব্যথা হলে সতর্ক হন
বুক, কাঁধ, ঘাড়, চোয়ালে যন্ত্রণা হলে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন। আপনার শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট হলে, বমি বমি ভাব হলেও দেরি না করে ডাক্তারের কাছে চলে যান।

এছাড়াও হৃদপিন্ডের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য যে কাজগুলো আপনার অবশ্যই করা উচিত।

# প্রতিদিন ব্যায়াম করুন
# ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখুন
# কোলেস্টেরল এবং ট্রাই গ্লিসারাইড লেভেল চেক করান
# ধূমপান থেকে দূরে থাকুন এবং স্ট্রেস কমান
# আপানর পরিবারের ইতিহাস জানুন, আগে কারো হৃদপিণ্ডের অসুস্থতা ছিল কি না।
# হার্ট ভালো রাখতে খাবারে বেশি তেলের ব্যবহার কমিয়ে আনুন।

তবে ৪৫ বছরের পরে পুরুষদের থেকে নারীরাই বেশি হৃদপিণ্ডের সমস্যা ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন।

ঢাকা, ২০ নভেম্বর (ওমেনআই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close