আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
নারী সংগঠন

নারীদের প্রধান শত্রু মৌলবাদ দূর করতে হবে

mhilওমেনআই: মৌলবাদ নারীদের প্রধান শত্রু। এ মৌলবাদ রুখতে না পারলে নারী সাংবাদিকরা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূঁইয়া।

সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় কামাল ভবন মিলনায়তনে গণমাধ্যমের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘নারীদের সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাচনে আসা উচিৎ। তাহলে নারীরা নিজেদের দাবিগুলো তুলতে পারবে। এছাড়া সাংবাদিকতায় কাজ করার জন্য নারীদের প্রধান শত্রু মৌলবাদ দূর করতে হবে। এজন্য নারী-পুরুষ উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও উদ্যোগের প্রয়োজন।’

সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানমের সভাপতিত্বে সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক দিল মনোয়ারা মনু।

মূল বক্তব্যে বলা হয়, ‘গণমাধ্যমের সব দায়িত্বশীল পদে নারীর অধিকতর অংশগ্রহণের কার্যকর ও পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারী সাংবাদিকরা যে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন তা দূর করার উদ্যোগ নেয়া উচিৎ।’

বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, ‘নারীদের বাইরের কাজের ক্ষেত্রে যেসব প্রতিকূল অভিজ্ঞতার সম্মুখিন হতে হয় সাংবাদিকতা পেশায় তা আরো বেশি প্রকট। এ পেশায় কর্মরত নারীরা এখনও নানাভাবে, নানা কাঠামোতে বৈষম্যের শিকার। এসব সত্ত্বেও বাংলাদেশের গণমাধ্যমে নারীর উপস্থিতি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। সারাদেশে প্রায় দুই হাজার নারী বর্তমানে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত।’

ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, ‘জেন্ডার পলিসিতে নারী সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টি থাকা উচিৎ। নারীরা অনেক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চায় না। সমাজ-রাষ্ট্রের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এসব সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে নারীদের কর্মদক্ষতা না বাড়ানো হলে তাদের জায়গা তৈরি করা সম্ভব হবে না।’

দৈনিক সংবাদের বার্তা সম্পাদক কাজী রফিক বলেন, ‘নারী সাংবাদিকদের সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি সংবাদ পত্রের মালিক পক্ষের দিক থেকে অনেক সময়ই দেখা হয় না। রাত ১০টার পর কোনো নারী গণমাধ্যমের কাজ করলে তাকে বাসায় ফেরার জন্য যানবাহন দিতে হবে। এটা ওয়েজবোর্ডের আইন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এটা মানা হয় না বিধায় অনেকে এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে চায় না।’

মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, ‘সংবাদপত্র সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। নারীর জন্য এটা ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। কিন্তু একই সঙ্গে নারী যেমন রাষ্ট্র পরিচালনায় রয়েছে তেমনি হাতুড়ি পেটা করে নারী পাথর ভাঙছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা দৃশ্যমান। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই নারীদের, নারী সাংবাদিকদের সভ্যতার পিলসুজ জ্বালাতে হয়।’

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, জনকণ্ঠের সুমি খান, চ্যানেল আইয়ের প্রধান বার্তা সম্পাদক প্রণব সাহা, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা সোমা, সংগঠনের সহ সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, নাহার আহমেদ, সহ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম, অর্থ সম্পাদ দিল আফরোজ বেগম প্রমুখ।

ঢাকা, ২৫ নভেম্বর (ওমেনআই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close