আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
শিল্প-সংস্কৃতি

এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ-২০১৪

Asian-wmnওমেনআই:শিল্পের কোনো জাত-গোত্র নেই। নেই কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা। শিল্পের টানেই মনের সুকুমার বৃত্তিকে ছড়িয়ে দিয়ে শিল্পের সঙ্গে শিল্পের ও শিল্পীর সঙ্গে শিল্পীর সেতুবন্ধন রচনার জন্য শিল্পকর্মের চেয়ে উৎকৃষ্ট মাধ্যম আর কী হতে পারে? এই সেতুবন্ধন তৈরির সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী।

বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে বিশ্বসংস্কৃতির সম্পর্কের বন্ধন তৈরির প্রত্যয়ে শিল্পকলা একাডেমীতে শুরু হয়েছে ১৬তম এশীয় দ্বি-বার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ-২০১৪।

একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে সোমবার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাসব্যাপী এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বাংলাদেশসহ এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৩২টি দেশের শিল্পীদের রংতুলির ক্যানভাসে শিল্পসুষমায় শোভিত হয়েছে শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালা প্লাজার প্রতিটি গ্যালারি। দেশ-বিদেশের ১০৪ জন শিল্পীর ২০৪টি শিল্পকর্মে অনিন্দ্য সৌন্দর্য্যে শিল্পময় হয়ে উঠেছে একাডেমীর জাতীয় চিত্রশালা প্লাজাটি।

সদ্যপ্রয়াত দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উদ্বোধনী আয়োজনের কার্যক্রম।

সংস্কৃতি সচিব ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রদর্শনীর উদ্বোধনীতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। প্রদর্শনীর প্রতিবেদন প্রকাশ করেন জুরিবোর্ডের সভাপতি শিল্পী হাশেম খান। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীকে স্মরণ করে প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, ‘কাইয়ুম চৌধুরী নেই এটা বলাটা ভুল হবে। তার সৃষ্টির মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের শিল্পাঙ্গন, তথা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে চির অমর হয়ে থাকবেন।’

মাসব্যাপী এই প্রদর্শনীর গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এশিয়ার সংস্কৃতির দর্পণ হিসেবে এই প্রদর্শনী ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এই প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে মানুষের সঙ্গে মানুষের এবং সংস্কৃতির সঙ্গে সংস্কৃতির বন্ধন তৈরি হবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্র্যান্ড এ্যাওয়ার্ড ও সম্মানসূচক এ্যাওয়ার্ড এই দুই ক্যাটাগরিতে নয়জন চিত্রশিল্পীকে পুরস্কার দেওয়া হয়। এর মধ্যে গ্র্যান্ড এ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত তিনজনকে দুই লাখ টাকা, মেডেল ও ক্রেস্ট প্রদানের পাশাপাশি সম্মানসূচক এ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত ছয়জনকে পঞ্চাশ হাজার টাকা, মেডেল ও ক্রেস্ট তুলে দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

গ্র্যান্ড এ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিল্পীরা হলেন— বাংলাদেশের গুলশান হোসেন, মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন মিল্টন ও কাতারের হেসা আহমেদ খল্লা।

সম্মানসূচক এ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তরা হলেন— বাংলাদেশের নুরুল আমিন, কামরুজ্জামান স্বাধীন, মাইনুল ইসলাম, বিশ্বজিৎ গোস্বামী, ওমানের হামেদ আল জাবেরি ও ড. ফখরিয়া আল ইয়াহিয়া।

মাসব্যাপী এই প্রদর্শনী উপলক্ষে এর আগে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের স্মারক ডাক টিকেটের উন্মোচন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রদর্শনীকে আকর্ষণীয় করে রাখার উদ্দেশে প্রতিদিন বিকেলে প্রদর্শনীস্থলে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কাইয়ুম চৌধুরীর অবদানের কথা তুলে ধরে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, কাইয়ুম চৌধুরী ছিলেন এ দেশের সকল সংস্কৃতি কর্মীর অভিভাবক। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের সব আন্দোলন সংগ্রামে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর অগ্রণী ভূমিকা ছিল বলেও জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। মাসব্যাপী এই প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে তার প্রতি সম্মান জানানো হবে বলেও মনে করেন আসাদুজ্জামান নূর।

সভাপতির বক্তব্যে সংস্কৃতি সচিব ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে মাসব্যাপী এই প্রদর্শনী ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।

প্রদর্শনীর উদ্বোধন শেষে জাতীয় চিত্রশালা প্লাজার ফটকে স্থাপিত সদ্যপ্রয়াত শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, সংস্কৃতি সচিব ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাস ও শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, ভুটান, ব্রুনাই, চীন, পূর্ব তিমুর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইরাক, জাপান, কুয়েত, কাজাখস্তান, লেবানন, মিয়ানমার, নেপাল, ওমান, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, ফিলিপাইন, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, সিরিয়া, থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৩২টি দেশ এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছে।

এশিয়ার সবচেয়ে বৃহৎ এই প্রদর্শনী উপলক্ষে ব্রোশিউর ও পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে। প্রদর্শনীটিকে উৎসবমুখর ও দৃষ্টিনন্দন করার জন্য জাতীয় প্রেস ক্লাবের কদম ফোয়ারা থেকে শাহবাগ পর্যন্ত এবং ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানকে আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে মাসব্যাপী এ প্রদর্শনী।

প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী বিদেশী চারুশিল্পী, শিল্প সমালোচক ও জুরি কমিটির সদস্যবৃন্দ জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, লালবাগ কেল্লা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন করবেন।

প্রসঙ্গত, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী আয়োজিত চারুকলা বিষয়ক সর্ববৃহৎ প্রদর্শনী ‘দ্বি-বার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ’। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে এ অনন্য প্রদর্শনী ১৯৮১ সালে যাত্রা শুরু করে।

ঢাকা, ০১ ডিসেম্বর (ওমেনআই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close