আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সারাদেশস্পট লাইট

প্রতিবন্ধীদের সঠিক সংখ্যা জানা নেই

disability-girl-wheelchair-300x257ওমেনআই: আজ ৩ ডিসেম্বর আর্ন্তজাতিক ও জাতীয়ভাবে প্রতিবন্ধী দিবস পালিত হচ্ছে।
প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। তবে দেশে প্রতিবন্ধীদের সংখ্যা কত তার সুস্পষ্ট কোনও হিসাব নেই সরকারের হাতে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও আর্ন্তজাতিক সংগঠনগুলোর দেওয়া তথ্য বিভিন্ন রকম।

বিভিন্ন সংগঠনের দেওয়া তথ্য মতে দেশের মোট জনসংখ্যার অনুপাতে প্রতিবন্ধীদের সংখ্যা ২ শতাংশ থেকে ১৫.৭ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবন্ধী নির্ধারণের মানদণ্ডের কারণেই পরিসংখ্যানে এই ভিন্নতা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যার ব্যুরোর মতে দেশের মোট জনসংখ্যার ৯.৭ শতাংশ প্রতিবন্ধী।

আজ ৩ ডিসেম্বর আর্ন্তজাতিক ও জাতীয়ভাবে প্রতিবন্ধী দিবস পালিত হচ্ছে।

সেন্টার ফর সার্ভিস অ্যান্ড ইনফরমেশন অন ডিজএবিলিটির নির্বাহী পরিচালক জহুরুল আলম খান বলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের সঠিক সংখ্যা বের করা এনজিওগুলোর জন্য প্রায় অসম্ভব একটা কাজ। তবে আমরা মনে করি প্রতিবন্ধীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৮ থেকে ১০ শতাংশ।’

এশিয়া প্যাসিফিক ডিজএবিলিটির সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করার জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আলাদা একটি বিভাগও রয়েছে। যদিও তাদের কোনও কার্যক্রম নেই।’

তবে এ বিষয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রতিবন্ধী বিভাগের সহকারি সচিব আবেদা আনসারি বলেন, ‘প্রতিবন্ধী শুমারির কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যেই এক হাজার ৩১ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। একটি প্রকল্পের অধীনে এ কাজ করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশের প্রতিবন্ধীর সংখ্যা কত এমন প্রশ্নের জবাবে প্রজেক্টের পরিচালক নাসরিন আরা সুরত আমিন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের হিসাব অনুযায়ী দেশে প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা ১৭ লাখ। শুমারির কাজ শেষ হলেই সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যাবে।’

তবে অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সরকারি হিসেবের পার্থক্যের কারণ কী এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গণনা শেষে এ বিষয়ে ব্যাখা দেওয়া হবে।’ চারদশক ধরে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করা জহুরুল আলম বলেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে যথাযথ সমন্বয় প্রয়োজন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১২শ কমিটি গঠন করতে হবে। অপর্যাপ্ত জনবল ও বিশেষজ্ঞ নিয়ে এ পরিসংখ্যান পরিচালনা করছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

প্রতিবন্ধী শুমারির প্রথম ও কঠিন পদক্ষেপ হচ্ছে একজন প্রতিবন্ধী মানুষকে শনাক্ত করা। এরপর তাকে পরিচয়পত্র দেওয়া। কিন্তু তা করতে ব্যর্থ হয়েছে মন্ত্রণালয়। জহুরল ইসলাম আরও বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন ওয়ার্ল্ড ব্যাংক বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো সংস্থাগুলোতে একটি নির্দিষ্ট বয়সের বেশি বয়সীদের প্রতিবন্ধী হিসেবে চিহ্নিত করে যার কারণে তাদের পরিসংখ্যাদের প্রতিবন্ধীর সংখ্যা এতে বেশি।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন–২০১৩ এর বিধি প্রণয়নে গড়িমসির ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সাধনার পর একটি আইন পেয়ে আমরা খুশি। কিন্তু এটাও খুব দুঃখজনক এতে পরিচয়পত্র ও প্রতিবন্ধী হিসেবে নির্দিষ্ট সুবিধার বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে। যা প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীল জন্য হতাশাজনক।’

তবে এ বিষয়ে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ইস্যুতে সরকার খুবই সংবেদনশীল। আমরা আশা করছি শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।’

ঢাকা, ০৩ ডিসেম্বর (ওমেনআই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close