আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
মতামত

মমতা, সার্ক সন্মেলন এবং নিশা দেশাই

nisha-deshaiশিতাংশু গুহ: সাপের লেজে পা পড়েছে। ক্ষেপে গেছেন ইসলামী জঙ্গীদের পশ্চিম বঙ্গ শা্খার নেত্রী মমতা ব্যানার্জী। সদ্য তিনি বলেছেন, বর্ধমান বোমা বিস্ফোরণ ‘র’-এর কারসাজি। চমত্কার যুক্তি! মনে পড়ে ২১শে আগস্ট বোমা হামলার পর খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগই বোমা ফাটিয়েছে।’ অর্থাৎ শেখ হাসিনা ভ্যানেটি ব্যাগে করে বোমা নিয়ে গিয়েছিলেন নিজেকে হত্যার জন্যে! সময়ের ব্যবধানে মমতা-খালেদার বক্তব্যের কি আশ্চর্য্য মিল! একেই বলে, ‘সব শিয়ালের এক রা’। পৃথিবীর এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত পর্যন্ত সব মৌলবাদীর সুর অভিন্ন হবারই কথা, মমতা-খালেদার সুরও তাই এক। ক’দিন আগে ফেইসবুকে একজন লিখেছেন: পশ্চিম বাংলার মানুষ এই কলঙ্ককে ক্ষমতা থেকে তাড়াতাড়ি সরান, তবেঁ পালাতে দেবেন না।

কাঠমান্ডুতে হাসিনা-মোদী ফলপ্রুসু বৈঠকে আমরা আশান্বিত। তিস্তা চুক্তি মমতার বিদায়ের আগে তার নাকের ডগায় স্বাক্ষরিত হোক, যেন মমতা টের পান, ‘তোমারই নাগর যাবে পরঘর তোমারই আঙ্গিনা দিয়ে’। তবে নেপালের রাজধানীতে ‘মোদী-শরিফ’ হ্যান্ডশেক কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ভারত-পাকিস্তানে শান্তির বাতাস বইতে শুরু করলে সার্কভুক্ত দেশগুলোতে স্বস্তি নামবে বটে। নিউইয়র্কের কবি নিখিল রায়-এর ভারত সম্পর্কিত একটি কবিতার লাইন মনে পড়লো, তিনি লিখেছেন, ‘জনসংখ্যায় দ্বিতীয়, গণতন্ত্রে অদ্বিতীয়’ ইত্যাদি–, ভারতের প্রধানমন্ত্রী কি পারবেন এই অসাধ্য সাধন করতে? সার্ক সন্মেলনে এতসব লাভের পরও বাংলাদেশের ডবল লাভ, ‘পাওয়ার’ চুক্তি স্বাক্ষর হওয়া, বাংলাদেশ নেপাল-ভুটান থেকেও বিদ্যুত আনতে পারবে। সুতরাং সামনে ‘নো লোডশেডিং’।

শ্যাটল পলিটিক্সের এই পর্যায়ে নিশা দেশাই বাংলাদেশ গেছেন। স্থানীয় সাপ্তাহিক প্রবাসের সম্পাদক সাইদ আহমদ জিজ্ঞাসা করলেন, ‘দাদা, কোন ঝামেলা পাকাতে আসছেন না তো’? বললাম, না, ঝামেলা পাকাবার সময় এটা নয়, এখন শুধু দেবে আর নেবে মিলাবে মিলিবে —অর্থাৎ মিল-মহব্বতের সময়। নিশা দেশাই গেছেন সরকারের একবছর পূর্তির আগাম অভিনন্দন জানাতে! খালেদার বাড়ীতে দাওয়াত খাবেন যে–? তাতে কি? গরিব মানুষ বড়লোকের বাড়ীতে দাওয়াত খেলে তা মনে রাখে, উল্টোটি হলে, অর্থাৎ গরীবের বাড়ীতে হাতির পা পড়লে গরিব কৃতার্থ হয় বটে, কিন্তু হাতি তা বেমালুম ভুলে যেতে তেমন সময় নেয়না! আসলে নিশা দেশাই-এর এই সফরকে অতটা গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন নেই। বরং দিল্লীর দিকে তাকান বেশি জরুরী। মোদী কি দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাবেন? মনে হয়না। সম্ভবত: ১৯৭৩-এ শেখ মনি লিখেছিলেন, ‘মোনায়েমের প্রশাসন দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সরকার চলতে পারেনা’। ১৯৯৬-এ জননেত্রী শেখ হাসিনাও তা টের পেয়েছিলেন, ‘জিয়া-এরশাদ-খালেদার মৌলবাদী প্রশাসন দিয়ে গণমুখী সরকার চলেনা। এখনো যে তিনি একেবারে টের পাচ্ছেন না তা নয়। একই কথা ভারতের জন্যেও প্রযোজ্য। প্রায় ৬০বছরের কংগ্রেসের প্রশাসন দিয়ে বিজেপি বা মোদী চাইলেও রাতারাতি সব উল্টে দেয়া সম্ভব না। তাছাড়া বাংলাদেশের মত ভারতের প্রধানমন্ত্রী সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী নন, তাকে জবাবদিহি করতে হয়, তার অঙ্গুলিহেলনে সবগুলো রাজ্য চলেনা। ভারতের প্রশাসন যথেষ্ট শক্তিশালী, সাউথ ব্লক পুরোপুরি শেখ হাসিনার পক্ষে, মোদী সরকারের বয়স মাত্র ৭মাস, সুতরাং ধীরে বৎস, ধীরে। ভারতে এসময়ে শেখ হাসিনার ইমেজ হচ্ছে, তিনি ভারতের বন্ধু, পূর্বাঞ্চলে সেভেন সিস্টারের বিদ্রোহীদের তিনি সহায়তা দিচ্ছেন না, তিনি সন্ত্রাস নির্মূলে সংকল্পবদ্ধ, সুতরাং তাকে ঘাটানোর দরকার কি? নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়, ভারত তাতে নাক গলানোর প্রয়োজন নেই! অতএব, খালেদার কপাল মন্দ!

এটা ঠিক ৫ই জানুয়ারী নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এর নীতি পাল্টায়নি, কিন্তু সুর নরম করেছে। নিশা দেশাই তাই রওশন এরশাদকে জিজ্ঞাসা করেছেন, ‘আগামী নির্বাচন কবে?’। জানা যায়, খালেদা জিয়া তার কাছে নালিশ করেছেন। মুরুব্বীরা নালিশ শুনতে সবসময়ই পছন্দ করেন। ম্যাডাম সুষমা স্বরাজের কাছেও নালিশ করেছিলেন। নালিশে কি কাজ হয়? পারলে ম্যাডাম আন্দোলন করেন, মুরুব্বিদের দেখান জনগণ আপনার পিছনে! কিন্তু আন্দোলনে এখন একটু ঝামেলা আছে, কারণ জ্বালাও-পোড়াও হলে হিতে বিপরীত হয়ে যাবে। হরতালও জমবে না। অথবা সম্প্রতিকালে হরতালের মত ‘সবকিছু চলবে, হরতালও হবে’। আগে জামাত ভরসা ছিলো, এখন ওরা একের পর এক ফাঁসিতে দিশাহারা। মেরুদন্ড সোজা করে দাড়াতে সময় নেবে।ততদিনে সরকার গুছিয়ে নেবে। তদুপরি আওয়ামী লীগ তো আর বসে থাকবে না; রাজনৈতিক ম্যারপেচে বিএনপি-জামাতের কোমর আরো ভেঙ্গে দেবে। দেশের উন্নতি নিয়ে এখন আর কারো সংশয় নেই। খুন-জখম, গুম কমেছে। আইন-শৃঙ্ঘলার উন্নতি হচ্ছে। মানুষের হাতে পয়সা আসছে। এখন শুধু মহাজোট নেতারা ‘কথা কম-কাজ বেশি’ নীতি মেনে চললে আগামী দিনগুলোতে জনগণ মুখ ঘুরিয়ে থাকবে না। এরই মধ্যে ‘দুই আনার মন্ত্রী’ মন্তব্যটি অনভিপ্রেত। যদিও ‘খালেদা জিয়া হাত পেতে বসেছিলেন, ভেবেছিলেন নিশা দেশাই তার হাতে ক্ষমতা দিয়ে যাবেন’, কথাটা বেশ সরস। আরো লক্ষনীয়, সদ্য দু’টি জনসভায় দুই নেত্রীর বক্তব্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যুদ্বাপরাধীদের গাড়ীতে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর সুযোগ দেয়ায় খালেদা জিয়ার বিচার হবে’। আর বেগম জিয়া বলেছেন, ‘শিগগিরই সরকারের পতন হবে’। ধারণা করি, আপাতত: দু’টোর কোনটাই হবেনা। দুই নেত্রী মাঠ গরম রাখতে চাচ্ছেন ভালো কথা, তবে নিশা দেশাই যাবার প্রাক্কালে যা বলে গেছেন তা-ই ঠিক, ‘নির্বাচন কখন হবে তা ঠিক করবে বাংলাদেশের জনগণ’। ৭৩-৭৪ সালে ঢাকায় বা বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে নির্বাচন বিরোধী বে-আইনী বামপন্থীদের একটি দেয়াল লিখন ছিলো, তা হলো, ‘রইলো তোদের নির্বাচন, চললাম আমরা বৃন্দাবন’। আপাতত: নির্বাচন থাক, উন্নয়ন চলুক।

শিতাংশু গুহ, কলাম লেখক, নিউইয়র্ক।

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। ওমেন অাই-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য ওমেন অাই কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

ঢাকা, ০৪ ডিসেম্বর (ওমেনআই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close