আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
নারী সংগঠন

‘নারীরা আয় করলেও ব্যয়ের স্বাধীনতা নেই’

A-M wmnওমেনঅাই: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক-উল-ইসলাম বলেছেন, ‘নারীরা এখন বিভিন্ন পেশায় অংশ নিয়ে কাজ করছে এবং অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায়, আয় করলেও ব্যয়ের ক্ষেত্রে নারীর অর্থনৈতিক কোনো স্বাধীনতা নেই। নারীর এ অবস্থান থেকে বের হয়ে আসার জন্য এককভাবে নয় সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।’

রবিবার বিকেলে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ-২০১৪ পালন উপলক্ষে আয়োজিত অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এ সভার আয়োজন করে।

ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, উইমেন্স নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ পুলিশ এবং সেবা প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদকে ধন্যবাদ জানিয়ে সচিব তারিক-উল-ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ পালন উপলক্ষে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে ছয় হাজার ৮৫৩ জন নারী পুলিশে কাজ করছে। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, বাংলাদেশের নারী পুলিশ শান্তি মিশনেও কাজ করছে। ৭০ -এর দশক থেকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদকে আমরা সব সময় দেখি নারীর মানবাধিকার রক্ষার জন্য কাজ করতে।’

তিনি আশা করে বলেন, ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের মতো সকলেই যদি যার যার অবস্থান থেকে নারীর অধিকার রক্ষার জন্য এগিয়ে আসে তাহলে এ দেশে নারী নির্যাতনের আর একটি ঘটনাও ঘটবে না।’

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনের এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের উইমেন্স নেটওয়ার্কের সভাপতি মিলি বিশ্বাস। প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের ডা. আফরোজা বেগম এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উইমেন সাপোর্ট এ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের উপ-পুলিশ কমিশনার শামীমা বেগম। সভাপতিত্ব করেন- বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আফিফা বেগম স্বপ্না নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সুপারিশ তুলে ধরেন।

মিলি বিশ্বাস বলেন, ‘সমাজে নারীর জন্য অনেক সংস্কারমূলক প্রথার সঙ্গে নতুন নতুন সমস্যাও এসেছে। এগুলোর মধ্যে নারীর প্রতি সহিংসতা, পাচার একটি অন্যতম সমস্যা।’

তিনি বলেন, ‘রক্ষণশীলতার শিকার নারী সমাজের এখন মুক্তি প্রয়োজন। এই মুক্তির জন্য প্রয়োজন বিপ্লব। নারী-পুরুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই বিপ্লব সম্ভব। পুরুষতান্ত্রিকতা নারীকে দুর্বল করছে।’

তিনি বলেন, ‘সম্পত্তিতে সমান অধিকার নারীকে সবল করতে পারে। তাই নারী-পুরুষের সমতার জন্য নারীদেরও প্রচেষ্টা থাকতে হবে। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা তা করতে চাই। আজকের নারী নেতৃত্বের গুণে উদ্ভাসিত। অমরা চাই জাগ্রত বিবেক হোক আমাদের সহযাত্রী।’

সভাপতির বক্তব্যে আয়শা খানম বলেন, ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দুই দশকের বেশি সময় ধরে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ পালন করে আসছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মনে করে একজন নারী যখন নির্যাতনের শিকার হয় তখন তাকে সহায়তার জন্য সরকার, প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠনের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। বাংলাদেশে নারী অধিকার ও অগ্রযাত্রায় আমাদের যে সামাজিক অর্জন সেগুলো যেন সামনের দিকে আরও অগ্রসর হয় সেই লক্ষ্যে আমরা এই কাজগুলো চালিয়ে যাব।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে একদিকে নারীরা যেমন পাহাড়ে উঠছে, বিভিন্ন পেশায় দৃশ্যমান হচ্ছে, অন্যদিকে আবার একটি নেতিবাচক চিত্রও আমরা দেখতে পাই।’

নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূর করার জন্য, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এবং নারী নির্যাতন মুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সকলে এক সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এই নেত্রী।

ঢাকা, ০৮ ডিসেম্বর (ওমেনআই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close