আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
উদ্যোক্তা

শ্রেষ্ঠ জয়িতারা

joyeeta wmn gajipurওমেনঅাই:দরিদ্রতা, পারিবারিক বাধা, শিক্ষার অভাবসহ নানা প্রতিকূলতার দেয়াল ডিঙ্গিয়ে সাফল্য নিয়ে এসেছেন গাজীপুরের ৫ নারী জয়িতা।

সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় এসব নারী ভাগ্য বদল করে ৫ ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত হয়েছেন শ্রেষ্ঠ জয়িতা।

জয়িতারা হলেন- জেলার শ্রীপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের রাঘাল চন্দ্র সরকারের স্ত্রী কাঞ্চনমালা সরকার, একই উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা আক্তার, কালীগঞ্জের গাড়ারিয়া গ্রামের আবুল বাশারের স্ত্রী মাকসুদা বেগম, কাপাসিয়া উপজেলার গোসাইর গাঁও গ্রামের আফসার উদ্দিনের স্ত্রী পেয়ারা বেগম ও শ্রীপুর উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের কামরুজ্জামানের স্ত্রী রাশিদা খন্দকার।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সফল কাঞ্চনমালা: হতদরিদ্র কাঞ্চনমালা সরকার চারদিকে তালপাতার ছাউনি দিয়ে শুরু করেন পিঠা ভাজার কাজ। নারী হয়ে রাস্তায় পিঠা বিক্রি নিয়ে লোকজন নানা কৌতুক ও খারাপ মন্তব্য করলেও দমেননি কাঞ্চনমালা। মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে কাঞ্চনমালা সমাজের সব বাধা অতিক্রম করে পিঠা বিক্রির দোকান তৈরি করে। তার এ দোকান এখন প্রসারিত হয়ে মার্কেটে পরিণত হয়েছে। সেই মার্কেট এখন কাঞ্চন মার্কেট নামে সবার কাছে পরিচিত। অন্যের বিপদ আপদে তিনি আর্থিকভাবে সহায়তা করে থাকেন। সমাজের সবাই এখন তাকে সম্মানের চোখে দেখেন। তার এ সাফল্য সমাজের সবার কাছে অনুকরণীয়।

শিক্ষা ও চাকরিতে সফল সেলিনা আক্তার: আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে এসএসসি পরীক্ষার আগেই বিয়ে হয়ে যায় সেলিনা আক্তারের। বিয়ের পর স্বামী ও শ্বশুর শাশুড়ির নির্যাতন সহ্য করে বেসরকারি সংস্থায় কাজ করে নিজের পড়াশুনার পাশাপাশি সংসারের কাজও সামলাতেন। বেসরকারি সংস্থায় কাজ করার কারণে গ্রামের লোকেরা নানা খারাপ মন্তব্য করতো। এ প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যদিয়ে এইচএসসি ও এমএসএস সমাপ্ত করে বর্তমানে তিনি এলএলবি ২য় বর্ষে পড়াশুনা করছেন। এছাড়া রিসোর্স ট্রেইনার হিসেবে ঢাকার আহসানিয়া মিশনে কাজ করছেন। ছেলেমেয়েদের ভালো স্কুলে পড়াতে পারছেন। সমাজ ও পরিবারে তার সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে।

সফল জননী মাকসুদা বেগম: মাকসুদা বেগমের ইচ্ছে ছিল মানুষ গড়ার কারিগর হয়ে দেশের মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করবেন। কিন্তু এইচএসসি ১ম বর্ষে থাকা অবস্থায় ১৯৭৪ সনে বিয়ে হয়। পারিবারিক বাধা সামাজিক প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে রাঙ্গামাটিয়া স্কুলে শিক্ষকতা করা অবস্থায় বিএ পাশ করেন এবং ১৯৭৮ সালে বাগদি উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য তাকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়েছে। বর্তমানে তার ৪ সন্তানই সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে মানবসেবায় নিয়োজিত। তার প্রথম সন্তান ২৪তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত, ২য় ছেলে পল্লী চিকিৎসক, ৩য় ছেলে ৩২তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে মেডিকেল অফিসার হিসেবে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মুন্সিগঞ্জে কর্মরত এবং একমাত্র মেয়ে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যাথলজি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। সমাজে তিনি রত্নগর্ভা মা হিসেবেই পরিচিত।

নির্যাতনের বিভীষিকা ভুলে এগিয়ে চলছেন পেয়ারা বেগম: পেয়ারা বেগম স্বপ্ন দেখতেন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হবেন। কিন্তু ৮ম শ্রেণী পাশ করার পর তার স্বপ্নে ছেদ পড়ে। তার পরিবার তাকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেয়। বেকার ও খারাপ সঙ্গে বখে যাওয়া স্বামীকে নিয়ে তার সংসারে দু’টি সন্তান আসে। কিন্তু তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামীর বন্ধুরা তাকে এসিড ছুড়ে মারে। এতে তার মুখ-মণ্ডল এবং শরীর ঝলসে যায়। ব্র্যাকের এসিড সারভাইন্ডার ফাউন্ডেশন থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলেও তার মুখ-মণ্ডল বিকৃত হয়ে যায়। এ অবস্থায় বেকার স্বামীকে নিয়ে এসিড সারভাইন্ডার ফাউন্ডেশনের সহায়তায় রানীগঞ্জ বাজারে চায়ের দোকান দেন তিনি। অল্প দিনেই তার চায়ের দোকানের প্রসার ঘটে। বর্তমানে তিনি চায়ের দোকানের পাশাপাশি মুদির দোকান পরিচালনা করছেন। এছাড়া ২০০৩ সালে পল্লী সমাজের সদস্য হিসেবে বাল্যবিয়ে নিরোধ, নারী নির্যাতন, এসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কাজ করছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ওই সংস্থার রানীগঞ্জের সভানেত্রী। এসিড ভিকটিমদের নিয়ে তিনি ‘এসিড ভিকটিম পুনর্বাসন’ সংগঠন করে তাদের চিকিৎসা ও আইনগত সহায়তার ব্যবস্থা করছেন।

সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখছেন রাশিদা খন্দকার: রাশিদা খন্দকারের জন্মের বছরেই মারা যান তার বাবা। ১০ম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় ১৯৯৪ সালে বেকার স্বামীর সঙ্গে বিয়ে হয়। ১৯৯৫ সালে ১ম বিভাগে এসএসসি পাশ করার পর জন্ম হয় তার প্রথম ছেলের। সন্তান লালন-পালন, অভাব ও পারিবারিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই ২০০০ সালে এইচএসসি পাশ করে স্থানীয় কিন্ডার গার্টেন স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি ৮ বছর পর পাশ করেন বিএ ও এমএ। বর্তমানে তিনি মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। গ্রামের শিক্ষা বিস্তারে গড়ে তুলেছেন দাদা আব্দুল বছিরের নামে পাঠাগার স্থাপন করেন। গরিব ছাত্রদের তিনি বিনাবেতনে পাঠদান করেন। জেলা জজ কর্তৃক লিগ্যাল এইডের সদস্য হিসেবে দরিদ্র লোকদের আইনি সহায়তা দিচ্ছেন। গাজী টিভিতে আজকের অনন্যা নামে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া নাটক, আবৃত্তিসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তিনি পরিচিত।

ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর (ওমেনঅাই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close