আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
অপরাধ

ব্রিটেনে বাংলাদেশী নারীর কারাদণ্ড

Runawmnওমেনঅাই:সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জিহাদে উৎসাহিত করার অপরাধে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এক নারীকে পাঁচ বছর তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ব্রিটেনের আদালত। বৃহস্পতিবার দেশটির কিংস্টন ক্রাউন কোর্ট ওই রায় দেন।

সিলেট জেলা থেকে ব্রিটেনে মাইগ্রেশন করা ওই নারীর নাম রুনা খান (৩৫)। ছয় সন্তানের জননী রুনা খান ব্রিটেনের লুটন এলাকার পশ্চিম ম্যাপল রোডে থাকেন। জুলাই মাসে তাকে অভিযুক্ত করা হয়। তখন তিনি সিরিয়ায় যুদ্ধে যেতে ফেসবুকে লোকজনকে উৎসাহিত করার কথা স্বীকার করেন। এরপর তিনি বিশেষ কারণে জামিনে ছিলেন।

রবিবার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি আমার বিশ্বাসকে ফেসবুকে পোস্ট করেছি।’ জিহাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিরাপরাধ মানুষ হত্যার পক্ষে তিনি নন।

তিনি বলেন, ‘আমি কোনো মার্কেটে গিয়ে নিজেকে বিস্ফোরিত করব (আত্মঘাতি বোমা হামলা) অথচ মার্কেটের বাইরে নিরাপরাধ শিশুরা রয়েছে, তা আমি কখনও বিশ্বাস করি না।’ আত্মঘাতি মিশনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমার মতে এটি যুদ্ধের একটি কৌশল হতে পারে, তাও শুধুমাত্র যুদ্ধক্ষেত্রে, এর বাইরে নয়।’

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে রুনা ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন যাতে লেখা ছিল-মুজাহিদ শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে। আদালত বলছে, এর মাধ্যমে তিনি মুসলিম নারীদের জিহাদের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। অন্য একটি চরমপন্থী ওয়েবসাইটে (নাম উল্লেখ করা হয়নি) তিনি লেখেন যে, তিনি আশা করেন, তার ছেলেও একদিন জিহাদ করবে।

ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি যখন তার (ছেলের) জ্যাকেটের বোতাম লাগাই তখন আমি মনে মনে ভাবি, আমি যেন আমার ছেলের গলায় শাহাদাতের বন্ধন পড়িয়ে দিচ্ছি।’ এ ব্যাপারে প্রসিকিউটর পল জার্ভিস বলেন, ‘খান চরম ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।’

উল্লেখ্য, ফেসবুকে এ সব পোস্টিংয়ের সময় ব্রিটেনের এক ছদ্মবেশী পুলিশ অফিসার তার ফেসবুক বন্ধু হয়ে যায়। আস্তে আস্তে ওই পুলিশ অফিসার তার সব তথ্য জেনে নেয়। এমনকি রুনা খান তাকে সিরিয়ায় জিহাদে যাওয়ার একটি গোপন পথ বলে দেন। যা তিনি (রুনা) পেয়েছিলেন অপর ব্রিটিশ বন্ধু নাহিন আহমেদের কাছ থেকে। অভিযোগ রয়েছে, নাহিন আহমেদ এর আগে সিরিয়ায় যুদ্ধ করে ব্রিটেনে ফিরেছেন এবং গত শুক্রবার তার কারাদণ্ড হয়েছে।

আদালতে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে পুলিশ যখন তার বাড়িতে তল্লাশি চালায় তখন মোবাইল ফোনে তার দুই বছরের সন্তানের হাতে আসল্ট রাইফেল সম্বলিত ছবি দেখতে পান। এছাড়া সিরিয়ার শিশুরা বন্দুক নিয়ে খেলাধুলা করছে এবং শিশুর হাতে হ্যান্ড গ্রেনেড রয়েছে এমন ইমেজও (ছবি) পাওয়া যায় বলে পুলিশ অভিযোগ করে।

রুনা খানের আইনজীবী জো সিধু কিউসি আদালতে বলেছেন, তার মক্কেল ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি দুর্বল।

অন্যদিকে, মেট্রোপলিটন পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের কমান্ডার রিচার্ড ওয়ালটন বলেন, ‘খান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে সন্ত্রাসবাদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতেন।’ এর মাধ্যমে তিনি সন্ত্রাসবাদ ছড়াতেন এবং অন্যদের চরমপন্থায় উৎসাহিত করতেন। সূত্র: বিবিসি।

ঢাকা, ১৩ ডিসেম্বর (ওমেনঅাই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close