আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
শিল্প-সংস্কৃতি

সাংস্কৃতিক জোটের বিজয় উৎসব শুরু

Bijoy-Utsabwmnওমেনঅাই:কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মঞ্চে বাজছে বিজয়ের গান ‘বিজয় নিশান উড়ছে ঐ’ আর স্বাধীন বাংলার মুক্ত আকাশে মুক্তির আনন্দে উড়ে যাচ্ছে লাল-সবুজের বর্ণিল সব বেলুন। জাতীয়তার প্রতীক লাল-সবুজের রং ধারণ করে ওড়ানো বেলুনের সঙ্গে মুক্তির গান বেজে ওঠার পর শহীদ মিনারের পাদদেশে উপস্থিত মুক্তির আনন্দে উদ্বেলিত দর্শকদের অবয়বেও ফুটে উঠে বিজয়ের আনন্দ।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রঙিন বেলুন উড়িয়ে শনিবার বিকেলে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিজয় উৎসবের উদ্বোধন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাক্ষী, কৌঁসুলি, তদন্ত কর্মকর্তা, বিচারকার্যের সঙ্গে সম্পৃক্তরা।

‘যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি হচ্ছে ধার্য, গণহত্যাকারী সংগঠনের বিচার অনিবার্য’ স্লোগান নিয়ে চার দিনব্যাপী এই বিজয় উৎসবের উদ্বোধন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, জিয়াদ আল মামুন, মনোয়ারা বেগম, সাক্ষী সিরু বাঙালী, প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান খান।

অনুষ্ঠানে শুরুতেই গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের শিল্পীদের কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘জাতীয় সংগীত’ ও ‘কারা মোর ঘর ভেঙেছে স্মরণ আছে’ শীর্ষক সমবেত সংগীত। এর আগে স্বাধীনতার শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারের মূল বেদীতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে একমিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে বিজয় উৎসবের উদ্বোধনীতে বক্তব্য রাখেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, মুক্তিযোদ্ধা নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, উৎসবের যুগ্ম-আহ্বায়ক কবি ড. মুহাম্মদ সামাদ, ঝুনা চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ প্রমুখ। উৎসবের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য মফিদুল হক।

উদ্বোধনী পর্ব শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া হওয়ার সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে অনেক আগেই যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করতেন। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বন্ধের ষড়যন্ত্র শুরু হয়। দীর্ঘদিন পর বর্তমান সরকার ও জনগণের সদিচ্ছায় এই প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু হয়েছে। যা জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘ তমসার অবসান ঘটিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শে অনুপ্রাণিত জাতি আবার ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছে স্বাধীনতার গৌরবদীপ্ত পতাকা। মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম এবং এই প্রজন্মের মধ্যে মেলবন্ধনে এই জাগরণ করে তুলেছে তাৎপর্যময়। আইনের সংস্কার করে বিচার প্রক্রিয়ার অসঙ্গতি পরিহার করে বিচার কার্যকে সুষ্ঠুভাবে করার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের যেভাবে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তাদের বিচার কার্য সম্পন্ন করা হচ্ছে ঠিক একইভাবে এ সব অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠন জামায়াত ইসলামকেও নিষিদ্ধ করতে হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত জামায়াতকে নিষিদ্ধের জন্য প্রয়োজনে সংবিধানের সংশোধন আনার জন্য সরকারের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক পর্বে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আশরাফুল আলম, লায়লা আফরোজ। দলীয় নৃত্য ও দলীয় গান পরিবেশন করে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা।

উৎসবের উদ্বোধনপর্বের সঞ্চালনায় ছিলেন সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মানজারুল ইসলাম চৌধুরী সুইট।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর, স্বাধীনতার স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রায়েরবাজার বধ্যভূমি, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর, সদরঘাটের বাহাদুর শাহ পার্কসহ রাজধানীর বারোটি স্থানে চার দিনব্যাপী এই বিজয় উৎসবের অনুষ্ঠানগুলো একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে উৎসবের কার্যক্রম। ১৬ ডিসেম্বর সকালে শহীদ মিনার থেকে বিজয় শোভাযাত্রা বের করা হবে।

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর (ওমেনঅাই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close