আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
শিল্প-সংস্কৃতি

‘বাংলা টেলিভিশনের ৫০ বছর’

book.JPG wmnওমেনঅাই:প্রকাশিত হলো মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগরের ‘বাংলা টেলিভিশনের ৫০ বছর’ শীর্ষক গ্রন্থ। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে সম্মিলিতভাবে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, সংগীতশিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসী, মাহবুব জামিল, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকি, নাট্যজন মামুনুর রশীদ, কেরামত মওলা, চলচ্চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেন, বিটিভির মহাপরিচালক আসাদ মান্নান, জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ, চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার প্রমুখ।

লেখককে শুভাশিস জানাতে অনুষ্ঠানে এসেছিলেন আসমা আব্বাসী, ফকির আলমগীর, তারিক আনাম খান, নাশিদ কামালসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল ইনু বলেন ‘টেলিভিশন ছাড়া আজ জগত প্রায় অচল। বাংলাদেশের মানুষের কাছে টেলিভিশনকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছিল বাংলাদেশ টেলিভিশন বা বিটিভি। ফরিদুর রেজা সাগরের এই বই বিটিভির সেই ইতিহাস তুলে ধরেছে। গণমাধ্যম তথা শিল্পী-সাংবাদিকদের সমস্যা দূর করতে বর্তমান সরকার সাধ্যমত সবকিছু করবে।’

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক বলেন, ‘আমরা যারা কবি, লেখক তারা অনেকটাই নিঃসঙ্গ। আমরা রাত জেগে, অনেকটা নিভৃতেই তেল পুড়িয়ে কিছু একটা লিখি। বছর শেষে তা বই আকারে প্রকাশিত হয়। কিন্তু বাংলাদেশ টেলিভিশন সেই আড়ালে থাকা মানুষগুলোর কৃতকর্ম মানুষের কাছে তুলে ধরে তারকা খ্যাতি দিয়েছিল।’ বিটিভিকে সরকারি খাত থেকে করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের জন্য এ সময় তিনি তথ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান।

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, তিন দশক বিটিভিতে কাজ করেছি। এরমধ্যে এক দশক বিটিভির দেয়ালের মধ্যেই ছিলাম। বিটিভি দীর্ঘদিন সরকারের প্রতিষ্ঠান ছিল না। এটা ছিল একটি করপোরেশন। কিন্তু কে বা কারা বঙ্গবন্ধুকে কুবুদ্ধি দিয়ে বিটিভিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করল। এতে ধীরে ধীরে মেধাবী সাংবাদিক শিল্পীর স্থানে বিটিভি পরিণত হলো আমলা ও রাজনীতিকদের বাকশে।’

অন্যান্য বক্তারা বলেন ‘বিটিভি আজ ৫০ বছরে পা দিলেও তার আকর্ষণ আর আগের মতো নেই। নানা স্যাটেলাইট টিভির বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার পাশে ‘বিটিভি’র অনুষ্ঠান এখন অনেকটাই ম্লান। দুর্বল নেতৃত্ব, ভুল নীতি, উদাসীনতা ও যথাযথ কর্মপরিকল্পনার অভাবে বিটিভি তার গৌরব হারিয়ে ফেলেছে। একসময় মধ্যবিত্তদের অন্যতম বিনোদনের মাধ্যম ছিল বিটিভি। সপরিবারে বসে টিভির অনুষ্ঠান উপভোগ করতেন। এখন বিটিভির নাম শুনলেই মানুষ নাক সিঁটকায়।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম। প্রকাশনা উৎসবের সমাপ্তির রেখা টানা হয় সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের বক্তব্য দিয়ে। এর আগে অনুভূতি প্রকাশ করেন ফরিদুর রেজা সাগর।

বইটিতে ফরিদুর রেজা সাগর বাংলাদেশ টেলিভিশনের পটভূমি, জন্ম, সূচনা পর্ব ও ডিআইটি পর্বের প্রথম এক দশক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। এর আগে প্রকাশিত হয়েছে ফরিদুর রেজা সাগরের ‘একজীবনে টেলিভিশন’, ‘টেলিভিশন আরেক জীবন’, ‘টেলিভিশন : জীবনের সঙ্গী’ ও ‘টেলিভিশন ভাবনা’ নামের চারটি বই। আর প্রকাশিত সেই চারটি বই নিয়ে এবার এক মলাটে প্রকাশিত হলো ‘বাংলা টেলিভিশনের ৫০ বছর’। বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে ‘ধায় যেন মোর সকল ভালোবাসা প্রভু তোমার পানে’ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গানকে। অনুষ্ঠানে এই গানটি পরিবেশন করেন শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা।

ঢাকা, ২৪ ডিসেম্বর (ওমেনঅাই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close