আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়

পথে পথে ব্যাপক তল্লাশি, হয়রানিতে মানুষ

ওমেন আই:
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের পূর্বঘোষিত ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আজ রোববার রাজধানী ও রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিরাপত্তাব্যবস্থার কড়াকড়িতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সকাল থেকে রাজধানী ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন সড়ক, মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। সাদা পোশাকে সক্রিয় রয়েছেন গোয়েন্দারা। পুলিশের পাশাপাশি আছে র্যাব। সশস্ত্র বাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে আছেন।

রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন, নয়াপল্টন, প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট মোড়, শাহবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, চৌধুরীপাড়া, মালিবাগ, মৌচাক, শাহজাহানপুর, বাংলামোটর, কারওয়ানবাজার, ফার্মগেট, আসাদগেট, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, মিরপুর, মহাখালী, বনানী, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। তাঁরা পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করছেন।
খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সকালে সেখানে আট প্লাটুন পুলিশ মোতায়েনের খবর জানা গেছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। বালুভর্তি ট্রাক দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে পুলিশ।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও এর আশপাশের এলাকা ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নয়াপল্টনে ঢোকার সব পথে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। সকাল ১০টা পর্যন্ত কার্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ দেখা গেছে। এই সময়ের মধ্যে ওই এলাকায় জোটের কোনো নেতা-কর্মীকে দেখা যায়নি। সেখানে কোনো মঞ্চও নেই।

ঢাকার সবগুলো প্রবেশ মুখে বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি। এসব জায়গায় রাজধানীমুখী মানুষ ও যানবাহনে ব্যাপকভাবে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তল্লাশি ছাড়া কাউকেই শহরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে যানবাহন।

বুড়িগঙ্গা সেতু, সদরঘাট, কেরানীগঞ্জে: বুড়িগঙ্গা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেতুতে পুলিশ তিন স্তরবিশিষ্ট ব্যারিকেড দিয়েছে। প্রথম সেতুতে পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ঢাকা নদীবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে একটিও লঞ্চ ঢাকায় আসেনি। ঢাকা থেকে কোনো লঞ্চ ছেড়েও যায়নি। সদরঘাট টার্মিনাল থেকে কোনো লঞ্চ না ছাড়ায় সকাল থেকে সেখানে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা ফিরে যাচ্ছেন।

বুড়িগঙ্গা নদী নৌযানশূন্য রয়েছে। এমনকি খেয়া নৌকাও নেই। কেরানীগঞ্জে শতাধিক খেয়াঘাটে পুলিশি পাহারা রয়েছে। কোনো খেয়া নৌকা যাতে পাড়ে ভিড়তে না পারে, সে জন্য এসব স্থানে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরাও রয়েছেন। খেয়া না থাকায় যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন মীর দাবি করেন, ‘আমরা যান চলাচলে কোনো রকম বাধা দিচ্ছি না।’

টঙ্গী: স্টেশন রোড ও চেরাগআলী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আড়াআড়িভাবে গাড়ি রেখে অবরোধ সৃষ্টি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছেন। তল্লাশির সময় অ্যাম্বুলেন্স থেকেও রোগী ও যাত্রীদের নামিয়ে দিতে দেখা গেছে।

সকাল নয়টার দিকে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার আবদুল বাতেন স্টেশন রোডে পুলিশের ব্যারিকেড পরিদর্শন করেন। তিনি রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রীদেরও তল্লাশির নির্দেশ দেন। ভুক্তভোগী কয়েকজন সাধারণ যাত্রী তল্লাশির নামে হয়রানিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

স্টেশন রোড এলাকা থেকে সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন।

গাবতলী: গাবতলী এলাকায় কয়েক স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছে পুলিশ। পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশও অবস্থান করছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ‘ওয়াচ টাওয়ার’ তৈরি করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেখানে অবস্থান নিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কর্মীরা। তবে ওই এলাকায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।

গাবতলী এলাকা দিয়ে খুব অল্পসংখ্যক যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ করছে। তবে এক্ষেত্রে ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। তবে কোনো ধরনের গণপরিবহন বা বাস ঢাকায় ঢুকছে না।

ঢাকার বাইরে থেকে আসা অফিসগামী যাত্রীদের গাবতলী এলাকায় নামিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। ফলে গন্তব্যে পৌঁছতে অনেককেই দীর্ঘপথ হাঁটতে হচ্ছে। তল্লাশির সময় পরিচয়পত্র কিংবা গন্তব্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানাতে ব্যর্থ হলে যাত্রীদের ঢাকায় ঢুকতে না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

গাবতলী সেতুর পূর্ব পাশে দারুস সালাম থানা পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা, সেতুর পশ্চিম পাশের এক পাড়ে ঢাকা জেলার পুলিশ ও অন্য পাড়ে র্যাব সদস্যরা অবস্থান নেয়। ঢাকায় ঢুকতে চাওয়া রিকশা আরোহী ও মোটর সাইকেল আরোহীদের তল্লাশি করছে তারা।

মিরপুর এক নম্বরের ব্যবসায়ী রমিজউদ্দিনের বাসা সাভারে। তিনি সেখান থেকে ঢাকায় প্রবেশ করার পথে হয়রানির ব্যাপারে বলেন, তাঁকে পুলিশ গাবতলী সেতুর পশ্চিম পাশে আটকে দেয়। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমরা কোন দেশে বাস করছি? তারা সাধারণ মানুষের চলাচলও বন্ধ করে দিয়েছে।’

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close