আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
আন্দোলন সংগ্রামে নারী

কৃষিতে মাসিং নু’রের স্বর্ণপদক লাভ

masing wmnnওমেনঅাই:মাসিং নু মারমা। বান্দরবানের এই পাহাড়ি কন্যা জাতীয় পর্যায়ে কৃষিক্ষেত্রে স্বর্ণপদক জয় করেছেন। তার এই কৃতিত্বের জন্যে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষেরা খুব খুশি।

মাসিং নু মারমার এই প্রাপ্তি ও অর্জনকে কাজে লাগিয়ে পাহাড়ের কৃষিজ কর্মকাণ্ডের উন্নয়ন, পরিধি ও সম্প্রসারণ আরও ব্যাপকতর ছড়িয়ে দেয়ার জন্য কার্যক্রম গ্রহণ এবং দ্রুত বাস্তবায়নের এখনই সময় বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

কৃষিক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণজয়ী মাসিং নু মারমার মতে, পরিকল্পিতভাবে অর্থকরী কৃষিজ উৎপাদন ও বিক্রি করে পাহাড়ের তিন জেলার প্রান্তিক চাষীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার অনেক সুযোগ রয়েছে।

এসএসসি পাশ করার পর চার বছর মেয়াদি কৃষিতে ডিপ্লোমা করেন মাসিং নু মারমা। স্বামী কৃষিজ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন আদর্শ কৃষক এবং তিনি নতুন নতুন বিরল জাতের উদ্ভিদ উদ্ভাবক এনিমং মারমা। মাসিং নু’র মা খুইমা প্রু মারমা ও একজন কৃষানী, গ্রাম- চেমিডলু পাড়া, বান্দরবান সদর উপজেলা।

গত ১৩ ডিসেম্বর কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঢাকায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সারাদেশে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে যে ৫টি স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। তার মধ্যে মাসিং নু মারমা কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য স্বীকৃতিস্বরূপ প্রথম তালিকায় স্বর্ণপদক লাভ করেন। ২৫ হাজার টাকা এবং একটি সনদপত্রও পান তিনি।

গত বছর ১ নভেম্বর যুবদিবসেও জাতীয় পর্যায়ে আত্মকর্মসংস্থান কার্যক্রমের জন্যে তিনি পদক পান। এ দুটি পদক প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই তিনি সরাসরি গ্রহণ করেন। মাসিং নু এ পর্যন্ত স্থানীয়,জেলা, আঞ্চলিক এবং জাতীয় পর্যায়ে পর পর ৫টি পদক ও অসংখ্য সনদপত্র লাভ করলেন তাঁর অবদানের জন্যে।

মাসিং নু মারমা জানান, তিনি প্রথমে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তাঁর এলাকায় এক একর ২০শতক বর্গা জমিতে ‘হিলি ফ্রুট্স অ্যান্ড এগ্রোভ্যালি’ নামে একটি খামার গড়ে তুলেন। তিনি সেখানে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেন। প্রাথমিকভাবে তাঁর এ প্রকল্পে ২৬ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। কৃষিকাজে হাতে-কলমে আরও শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি চারবছর মেয়াদি কৃষি ডিপ্লোমা গ্রহণ এবং অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোয় তার প্রবল ইচ্ছে জাগে।

কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১১৮ জন যুব নারী ও পুরুষকে তিনি প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। তাঁর খামারে উচ্চমূল্যের অর্থকরী ফসল ষ্ট্রবেরি, গ্রীষ্মকালীন টমেটো, ড্রাগনফল, মাশরুমসহ রকমারী ফসল চাষ করে সকলকে তাক লাগিয়ে দেন। গত অর্থবছরে তিনি নিজ খামারে উৎপাদিত ষ্ট্রবেরিসহ রকমারী কৃষিপণ্য বিক্রি করে ৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা আয় করেন।

কঠোর পরিশ্রমী নারী মাসিং নু মারমা জানান, তাঁর স্বামী আদর্শ কৃষক এনিমং মারমা, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের নানামুখী সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণপদক অর্জনের সুযোগ পাওয়ায় তিনি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আগামী দিনে তার ইচ্ছে এবং আগ্রহ রয়েছে- আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিভিন্ন কৃষিজ কাজে অংশ নেওয়া এবং সুযোগ পেলে উচ্চতর কৃষি ডিপ্লোমা গ্রহণ করে দেশ ও জাতির সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার।

ঢাকা, ০৩ জানুয়ারি (ওমেনআই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close