আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়মিডিয়া

বিচারপতিদের সঙ্গে সাংবাদিকরা ফোনে, ই-মেইলে যোগাযোগ করতে পারবে না

ওমেন আই : স্কাইপ কেলেঙ্কারির জের ধরে লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী দ্যা ইকোনোমিস্টের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। সেই সঙ্গে স্কাইপির সাথে সম্পৃক্ততার কোন প্রমাণ না পাওয়ায় পত্রিকাটির সম্পাদক রব গির্ফস ও দক্ষিণ এশিয়া ব্যুরো চিফ এ্যাডাম রবার্টসকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

রোববার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্রথম ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। এদিকে এ আদেশ দেওয়ার সময় বেশকিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালের কোন বিচারপতির সাথে কোন সাংবাদিক ফোনে, ই-মেইলে যোগাযোগ করতে পারবে না। মামলা সংক্রান্ত কিংবা প্রশাসনিক কোন তথ্যের জন্য প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের সাথে যোগাযোগ করা যাবে। আইন লঙ্ঘন করে কোন তথ্য সংগ্রহ করে, তা মিডিয়ায় প্রচার করা উচিত হবে না। সেই সঙ্গে ট্রাইব্যুনাল কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়।

ট্রাইব্যুনালের এ আদেশের সময় ইকোনোমিস্ট পত্রিকার পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১৮ জুলাই ট্রাইব্যুনালে পত্রিকার ও প্রসিকিউশন উভয়পক্ষের আইনজীবীর শুনানি শেষে পত্রিকাটির আদালত অবমাননার বিষয়ে আদেশের জন্য ২৭ আগস্ট দিন ধার্য করেন আদালত। পরে আবার ২৬ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করেন। ওই দিন পিছিয়ে ০৪ নভেম্বর ঠিক করেছিলেন, পরে আবারো পিছিয়ে ৮ ডিসেম্বর দিন ঠিক করেন। কিন্তু নির্ধারিত দিনে আবারো স্বপ্রণোদিত হয়ে পত্রিকার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য পিছিয়ে আগামী ২৯ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে শুনানি করেন পত্রিকার পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান ও প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সুলতান মাহমুদ সিমন।

শুনানিতে ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সোর্সের (তৃতীয় ব্যক্তির) মাধ্যমে পাওয়া (স্কাইপি সংলাপ ও ইমেইল হ্যাকিং) হয়েছে কিনা এই তথ্য যাচাই করার জন্য বিচারপতির সঙ্গে কথা বলেছি। ইকোনোমিস্টের আইনজীবী বলেন, আমি একজন সাংবাদিক হিসেবে আমার নিউজের অথেনটিক যাচাই করতে ঘটনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি (বিচারপতির) সঙ্গে যোগাযোগ করতেই পারি। তাতে আদালত অবমাননা হওয়ার কথা নয়।

এই যুক্তির জবাবে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ বলেন, একজন বিচারপতির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হলে ওই আদালতের কর্মকর্তা রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা বলতে পারতেন কিন্তু তিনি তা করেন নি। এটি একটি অপরাধ। তাই এর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, এই (স্কাইপি কেলেঙ্কারী) প্রকাশ করা দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক একটি ষড়যন্ত্র ছিল। তাই এটা নিষ্পত্তি করতে একটি অবজারবেশন দিয়ে নিষ্পত্তি করতে হবে।

এর আগে ট্রাইব্যুনাল (স্কাইপি এবং হ্যাকিং) বিষয়টি কোন সোর্সের মাধ্যমে পেয়েছেন তার নাম প্রকাশ করতে বললে ব্যারিস্টার মোস্তাফিজ বলেন, সাংবাদিকতার (কোড অব কন্ডাক্ট) অনুযায়ী সোর্সের নাম প্রকাশ করা হয় না।

আদালতের প্রশ্নগুলো হলো-১ যে ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী বিচারপতির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন কিনা এবং অপর ২ নং প্রশ্নটি হলো ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী সোর্সের নাম প্রকাশ করা হয় কিনা।

এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান আদালতকে বলেন, এই প্রশ্নের জবাব দিতে ব্রিটিশ আইন পর্যালোচনা করে জানা গেছে নাম প্রকাশ করা যায় না।

এর আগে লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী দ্যা ইকোনোমিস্টের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পত্রিকা সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে গত ২৫ মার্চ একটি প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের কাছে উপস্থাপন করেছেন বলে জানা গেছে।

ব্রিটিশ সাময়িকী দ্যা ইকোনোমিস্টের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের জারি করা আদালত অবমাননার বিষয়ে লিখিত জবাব ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে পত্রিকাটির পক্ষে তাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান।

এর আগে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খানকে তাদের আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয় সাময়িকীর কর্তৃপক্ষ।

আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, আমরা ট্রাইব্যুনালে আদালত অবমাননার অভিযোগের বিষয়ে শুনানি করেছি এবং আদালত বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য আবেদন করলে তা গ্রহণ করেন এবং আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন।

দ্যা ইকোনোমিস্টের পক্ষে ট্রাইব্যুনালের কাছে দাখিল করা লিখিত জবাবে আদালত অবমাননার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তারা বলেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইন পরিপন্থী কোন কাজ করা হয়নি। সুতরাং ট্রাইব্যুনাল দ্যা ইকোনোমিস্ট সাময়িকীর বিরুদ্ধে যে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনেছে তা তারা অস্বীকার করছে।

২০১২ সালের ৬ ডিসেম্বর লন্ডনভিত্তিক ইকোনোমিস্টের বিরুদ্ধে ৭১-এ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ এনে তার কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক। নোটিশে পত্রিকাটির সম্পাদক ও দক্ষিণ এশিয়া ব্যুরো চিফের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর কথা বলা হয়।

এরপর বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপি কেলেঙ্কারি দৈনিক আমার দেশ পত্রিকাসহ বেশ কিছু পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ায় ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর বিচারপতি নিজামুল হক ট্রাইব্যুনাল থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর বর্তমান চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরকে নিয়োগ দিয়ে ট্রাইব্যুনাল পুনঃগঠন করা হয়।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close