আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
উদ্যোক্তা

দিন বদলের গল্প

narai wmnওমেনআই: সংসারের আর্থিক সংকট কাটাতে জবান আলী রিকশা-ভ্যান চালান। ইয়ারন বেগম স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা এসকেএস ফাউন্ডেশনের সদস্য হন। এই সংস্থা থেকে চার হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সেই টাকায় তিনি রিকশা-ভ্যান কিনে দেন স্বামীকে।

স্বামীর নিজের রিকশা হওয়ায় সংসারে আয় কিছুটা বেড়েছে। ছোট ছেলে-মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করে দেন। কিন্তু ওদের পড়াশোনারও খরচ আছে। স্কুলের ড্রেস, বই-খাতা ও অন্যান্য খরচ চালাতে গিয়ে তাদের সংসারে অভাব-অনটন আর কাটে না। সংসার চালাতে হাঁপিয়ে উঠেন ইয়ারন বেগম।

কীভাবে স্বাবলম্বী হলেন জানতে চাইলে ইয়ারন বেগম বলেন, “২০১০ সালের দিকে ওই বেসরকারি সংস্থাটি সাঘাটা এলাকায় সড়কের ধারে বাসক গাছ লাগিয়ে পাতা আহরণ ও বিপণনের এক প্রকল্প গ্রহণ করে। ওই প্রকল্পের আওতায় ইউনিয়ন পরিষদের কাছ থেকে লিজ নিয়ে তাদের আওতাধীন ১৪ কিমি. সড়কের উভয় পাশে বাসক গাছের চারা রোপণের ব্যবস্থা নেয়া হয়।”

সংগঠনটি সুবিধাভোগী ২১ জন দুস্থ গৃহিণীর মধ্যে ওই সড়ক ভাগ করে দেয়। এখানে আমরা বাসক চারা রোপণ করি। আমি আধা কিমি. এলাকায় মোট ১ হাজার ৪৫০টি বাসক চারা লাগাই।

এর আগে আমাদের চারা রোপণ পদ্ধতিতে পরিচর্যার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এবং তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্নও দেখান হয়। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী রোপিত চারাগুলোর পরিচর্যা করি।

যথাযথ পরিচর্যার ফলে তিন মাসের মধ্যেই চারাগুলো লক লক করে বেড়ে ওঠে। পাতা উত্তোলনের উপযুক্ত সময় হলে ওষুধ তৈরির প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি বাসক পাতা ক্রয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। তারা প্রতি কেজি শুকনো পাতা ৪০ টাকা দরে কিনতে সম্মত হয়।

প্রথমে পাতা উত্তোলনের পরিমাণ কিছুটা কম হলেও পরে অনেক বেড়ে যায়। প্রতি মাসে ১২৫ কেজি পর্যন্ত পাতা বিক্রি করা যায়। এতে আমার মাসে আয় হয় প্রায় ৫ হাজার টাকা।

সংসারের যাবতীয় কাজের পর এ কাজের ফলে যে বাড়তি আয় হয় তা ইয়ারন বেগমের জীবনের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে। ইতোমধ্যে ওই আয় দিয়ে তিনি নতুন ঘর তুলেছেন, গরু-ছাগল কিনেছেন, হাঁস-মুরগি পুষছেন।

স্বামী ও তার নিজের আয়ে এখন তিনি সংসারে স্বচ্ছলতা পেয়েছেন। ইয়ারন বেগমের জীবনে এখন সুখ এসেছে। অভাব-অনটনের দুঃসহ দিনগুলো ভুলে গিয়ে তিনি এখন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে।

ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি (ওমেনঅাই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close