আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
উদ্যোক্তা

কিশোর কুমারের কারণেই বিদ্যানন্দ আজ ‘মহীরুহ’

অনলাইন ডেস্ক : যার প্রতিষ্ঠা ও নেতৃত্বে অগণীত মানুষের আস্থা অর্জন করে সারা দেশের বিশাল সংগঠনে পরিণত হয়েছে ‘বিদ্যানন্দ’, হাজার হাজার বিপণ্ণ মানুষকে দিচ্ছে সহায়তা, সেই তরুণ উদ্যোক্তা কিশোর কুমার দাশ বিদ্যানন্দের প্রধান পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। সাম্প্রদায়িক আক্রমণ থেকে প্রতিষ্ঠানকে রক্ষার জন্যই তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি সম্পর্ক ত্যাগ করেননি। গত মঙ্গলবার ভোরে ‘বিদ্যানন্দ’ এর ফেসবুক পেইজ থেকেই এ তথ্য জানানো হয়েছে।

‘বিদ্যানন্দ’ এর ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘বিদ্যানন্দের প্রবাসী উদ্যোক্তা সশরীরে খুব অল্পই সময় দিতে পারেন। ৯০% মুসলিম স্বেচ্ছাসেবকরাই চালিয়ে যান প্রতিষ্ঠানটির বিশাল কর্মযজ্ঞ। তবুও উদ্যোক্তার ধর্ম পরিচয়ে অনেকেই অপপ্রচার চালায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে। যাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় কার্যক্রম, অনুদানের গতি। গত মাসেই বিদ্যানন্দের প্রধান পদত্যাগের কথা জানিয়ে দেন স্বেচ্ছাসেবকদের। সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারে নয়, বরঞ্চ ব্যক্তিগত ত্যাগে স্বেচ্ছাসেবকদের অনুপ্রাণিত করার এবং নতুন মেধায় প্রতিষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করার স্বপ্নে এমন সিদ্ধান্ত। আর তিনি প্রধানের পদ ছাড়লেও বিদ্যানন্দ ছাড়ছেন না, বরঞ্চ সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন।’

ঘোষণায় বলা হয়, ‘আমরা বিষয়টি প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম চলমান ক্যাম্পেইনের পরে। কিন্তু কিছুদিন ধরে চলা মাত্রাতিরিক্ত সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারে জল ঢালতে খবরটি আজকে শেয়ার করলাম। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য বিষয়টি হতাশার নয়। বরঞ্চ পদ আঁকড়ে থাকার মানসিকতার এই সমাজে উল্টা পথে হাঁটতে পারার জন্য গর্ব হচ্ছে। আর বিদ্যানন্দে পদে কি যায় আসে? এখানে তো কাজটাই আসল, আর সেটাই আমরা করে ছাড়বো।’

ঘোষণায় জানানো হয়, ‘বিদ্যানন্দ’ নামটি দিয়েছেন এক মুসলমান ব্র্যান্ড এক্সপার্ট। ‘আনন্দের মাধ্যমে বিদ্যা অর্জন’ স্লোগানের সাথে মিল রেখে তিনি নামটি দিয়েছিলেন। অনেকেই এটাকে ব্যক্তির নাম থেকে ভেবে ভুল করেন। এজন্য আমরা দুই বছর আগে নাম পরিবর্তনের পক্ষে-বিপক্ষে ভোটে করি এবং স্বেচ্ছাসেবকরা নাম পরিবর্তনের বিপক্ষে ভোট দেয়।’

এই ঘোষণা প্রচারের পর থেকে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টি অনেকেই মেনে নিতে পারছে না। প্রতিবাদের ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তবে কিশোর কুমারের কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

কিশোর কুমার দাশ চুয়েট থেকে ২০০১ ব্যাচে পাস করা কম্পিউটার প্রকৌশলী।

ইনিই বাংলাদেশে প্রথম গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং এর ব্যবস্থা করেন। তিনিই প্রথম এক টাকায় আহার প্রজেক্টের মাধ্যমে পথশিশু ও বন্যা, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর মাঝে খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করেন। লাখ লাখ মানুষ এই কর্মসূচি থেকে উপকৃত হয়েছে।

এক টাকা চিকিৎসা প্রজেক্টের আওতা এই পর্যন্ত ২৫,০০০ এর বেশি সুবিধাবঞ্চিত মানুষ প্রেস্ক্রিপশনের পাশাপাশি তিন দিনের ওষুধ পেয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয় শিশু এবং বৃদ্ধদের।

এক গ্লাস দুধ প্রজেক্টের আওতায় বস্তির গর্ভবতী ও নবজাতকের মায়েদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হয়। এছাড়া স্থায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনাথালয় গুলোর যাত্রা শুরু। প্রায় তিন শতাধিক এতিম এবং হতদরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য ইতিমধ্যে চারটি অনাথালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আরো দুটো অনাথালয়ের কাজ চলছে।

আনন্দের সাথে শিক্ষালাভের মন্ত্র নিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বর্তমানে স্কুল আছে ৬ টি। বাসন্তী নামে একটি গার্মেন্টসে তৈরি হচ্ছে শীতের পোষাক। এছাড়া এক বছরে অনাথালয়ের ছেলেমেয়েদের জন্য বিভিন্ন উৎসবে বানানো হয়েছে নতুন কাপড়। পাঁচ টাকায় স্যানিটারি প্যাড চালু করা হয়েছে বস্তির দরিদ্র এবং ছিন্নমূল শিশু কিশোরীদের জন্য।
করোনা পরিস্থিতিতে রাজধানীর ২৬ হাজার মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে পুষ্টিকর খাবার। এই খাবার স্বেচ্ছাসেবিদের পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যা মানুষের কাছে পৌছে দেন।
সবকিছু সম্ভব হয়েছে উদ্যোক্ত কিশোর কুমার দাসের উদ্ভাবনী চিন্তার ফলেই। সততা ও স্বচ্ছতা রেখে এ সব কাজ করার কারণেই বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কোটি কোটি টাকা অনুদান দিচ্ছে ‘বিদ্যানন্দ’কে।

২০১৩ সালের আগস্টে বিদ্যানন্দ নিয়ে বোন শিপ্রা দাশের সঙ্গে কথা হয়। এরপর নভেম্বর–ডিসেম্বরের দিকে বোন শিপ্রা দাশ এই ভাবনায় গতি আনেন। আর ২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর বিদ্যানন্দের নারায়ণগঞ্জ শাখার যাত্রা শুরু হয়। এরপর বিদ্যানন্দের চট্টগ্রাম শাখা কাজ শুরু করে ২০১৪ সালের মার্চ। সবশেষে ২০১৪ সালের জুলাইতে বিদ্যানন্দের মিরপুর শাখা খোলা হয়। বিদ্যানন্দের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার আর নারায়ণগঞ্জ শাখার পরিচালক শিপ্রা দুই ভাইবোন ব্যক্তিগত সঞ্চয় ঢেলে দেন এই স্কুলের জন্য।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close