আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
শিক্ষা

২০১৮ সাল থেকে সেশনজট মুক্ত

ee 22.1.15ওমেনআই: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৮ সাল থেকে সম্পূর্ণ সেশনজট মুক্ত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ।

ধানমণ্ডিতে বিশবিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সেশনজট নিরসনে ক্রাশ প্রোগ্রাম সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবগত করার সময় বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি এ ঘোষণা দেন।

উপাচার্য বলেন, ‘স্নাতক ও মাস্টার্সের বিভিন্ন বর্ষের পুরনো শিক্ষার্থীদেরকে পুঞ্জীভূত সেশনজট থেকে মুক্ত করতে মোট ক্লাস নেওয়ার দিন, ফরম পূরণ, পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশের সময় কমিয়ে এনে এবং ক্লাস টাইম বৃদ্ধি করে আমরা একটি ক্রাশ প্রোগ্রাম প্রস্তুত করেছি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮১তম একাডেমিক কাউন্সিলে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি কার্যকর করতে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে কলেজসমূহের শিক্ষক, পরীক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে কলেজ শিক্ষকদের প্রায় প্রতিদিন সকালে পাঠদান আর অপরাহ্নে পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে। এমনকি শুক্রবারেও এক বেলা পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন হবে। পরবর্তী দুই বছর তাদেরকে নিজস্ব পাওনা ছুটি ভোগ বা ভিন্ন কাজে তা ব্যবহারের পরিবর্তে অধিকাংশ সময় এ ক্ষেত্রে নিয়োজিত থাকতে হবে। লাখ লাখ শিক্ষার্থীর স্বার্থে শিক্ষকরা এ কর্মসূচি সফল করতে সম্মত হয়েছেন। এর ফলে পুরনো বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের যত সময় ইতোমধ্যে ঝরে গেছে, তা ক্ষেত্রবিশেষে কয়েকমাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ জন্য শিক্ষকদের উত্তরপত্র মূল্যায়নসহ সম্ভাব্য অন্যান্য ক্ষেত্রে সম্মানীর হার বৃদ্ধি করে পুনর্নির্ধারণ করা হবে।’

এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে পৃথক মনিটরিং সেল গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।

অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘২০১৭ সালের মধ্যে পুরনো সকল বর্ষের শিক্ষার্থীরা সেশনজট থেকে মুক্ত হতে সক্ষম হবে। আর ২০১৮ সালের শুরুতেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হবে সম্পূর্ণ সেশনজট মুক্ত। অন্যদিকে ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষে যারা স্নাতকে ভর্তি হয়েছে, তাদের থেকে শুরু করে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ৩-৪ বছরের মধ্যে পাস করে বের হয়ে যেতে পারবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম। এ লক্ষ্যে ২০১৪ সালের ১১ নভেম্বর সম্পন্ন ২০১২ সালের ৪র্থ বর্ষ স্নাতক পরীক্ষাকে আমরা ‘টেস্ট কেস’ হিসেবে গ্রহণ করি। আর পরীক্ষা সমাপ্তির ২ মাস ২ দিনের মধ্যে গত ১৩ জানুয়ারি এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। নতুন পরীক্ষা পরিচালন ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন পদ্ধতি, ডাক যোগাযোগের স্থলে বিকেন্দ্রীকরণ ব্যবস্থা তথা আঞ্চলিক কেন্দ্রসমূহকে পুরোপুরি সক্রিয় করে এর মাধ্যমে সরাসরি পরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ, সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। এখন থেকে অন্যান্য সব পরীক্ষার ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।’

উপাচার্য বলেন, ‘ওএমআর পদ্ধতি সময় সাপেক্ষ হওয়ায় আমরা একটি বিশেষ সফটওয়্যার তৈরি করছি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিএসই (অনার্স) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে এটি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। পরীক্ষকরা উত্তরপত্র মূল্যায়ন শেষে এ ডিভাইসের সাহায্যে প্রদত্ত নম্বর গাজীপুরে আমাদের সার্ভারে থ্রো করবেন। এটির ব্যাপক ব্যবহারের সঙ্গে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা ও ফল প্রকাশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে।

রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট নিরসনে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন উপাচার্য।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য আসলাম ভূঁইয়া, কোষাধ্যক্ষ নোমানুর রশীদ প্রমুখ।

ঢাকা, ২২ জানুয়ারি (ওমেনঅাই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close