আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
মতামত

আগুনে পোড়া রাজনীতি…

Base agun 7.1.15শওকত টগর : হার্ট অ্যাটাক হল হার্ট ঠিক মত কাজ না করা । করোনারি আর্টারি নামে হৃৎপিন্ডের গায়ে থাকে দুটি ছোট ধমনী।এরাই হৃৎপিন্ডে পুষ্টির যোগান দেয়। কোন কারনে এই করোনারি আর্টারিতে যদি ব্লক সৃষ্টি হয় তাহলে যে এলাকা ঐ আর্টারি বা ধমনীর রক্তের পুষ্টি নিয়ে চলে সে জায়গার হৃৎপেশি কাজ করে না। তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে। এর কেতাবি নাম মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন।
হার্ট অ্যাটাকে বুকে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভূত হয়। এই ব্যাথা ২০-৩০ মিনিট স্থায়ী হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগী হাসপাতালে পৌছার আগেই মৃত্যুবরন করে। যেমনটা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো’র বেলায় হয়েছে। এটা আপনারও হতে পারে, আমারও হতে পারে। এটা নিয়ে অঙ্ক কষে মিলানোর কিছু নাই যে, আল্লাহ অমুককে অমুক কারনে হার্ট অ্যাটাক করাইছে। আপনি নিশ্চই আল্লাহর মাইন্ড রিডার হয়ে যান নাই।

যা হোক, ফেসবুকে অনেকেই লিখছেন, আল্লাহ নাকি খালেদা জিয়াকে শাস্তি দিয়েছেন। এখানে আমার একটা কথা বলার আছে। আপনারা যারা এমনটা ভাবছেন, তারা আরো একবার ভালো করে ভেবে দেখুন, সত্যিই কি তাই? যদি তাই হয়, তাহলে কি আপনি মনে করছেন যে, বর্তমানে যত সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে সব সমস্যার জন্য খালেদা জিয়া একাই দায়ী? আর কারো কোন দায়-ই নাই। একটি দল খালি জনগণের জীবনই বাচান, এস এম সি’র ওরস্যালাইনের মতো! ২০১০ সালে অস্কার অ্যাওয়ার্ডজয়ী চলচ্চিত্র হার্ট লকারে দেখায় যে, আমেরিকান সৈন্যরা ইরাকী জনগণ এমনকি জঙ্গীদের পর্যন্ত বাঁচানোর জন্য নিজেদের জীবন দিয়ে দিচ্ছেন। এও আমাদের বিশ্বাস করতে হয়!!!

ঠিক সেইরকম বর্তমানে বাংলাদেশে একটি দল পেট্রোল বোমা মারার দায়ে গুরুতরভাবে অভিযুক্ত হচ্ছে দেখে আরেকটি দল ওই আমেরিকান সৈন্যদের ভূমিকা নিতে চাচ্ছে। কুমিরের চোখে অশ্রু, আর কাকে বলে?

যারা তালগাছ আমার নীতি অবলম্বন করছেন তাদের কি কোনই দায় নেই? দলকানা ভাবে চিন্তা না করে একবার ভেবে দেখুন তো, ক্ষমতার মসনদের জন্য তারা কি কোন মায়ের বুক খালি করেন নাই? দেশে আজ যা কিছু ঘটছে, তার জন্য কি তাদের কোনই ভূমিকা নাই? ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু ছিলো? এরপরও তো বিএনপি এক বছর চুপ করে ছিলো। সরকার বিএনপি’র ভদ্রতাকে দুর্বলতা মনে করছে। বিএনপির আন্দোলনের ক্ষমতা নেই বলে কালোমানিকরা দাঁত কেলিয়েছেন। এখন বিএনপিকে সরকার রাস্তায়ও দাঁড়াতে দিচ্ছে না, জনসভা করতে দিচ্ছে না। সব নেতাকর্মীকে জেলে পুরে মামলা মোকদ্দমা দিচ্ছে, ক্রসফায়ারে দিচ্ছে, তাহলে বিএনপি করবে টা কি? বিএনপিকে কি সহিংসতার দিকে উনারাই ঠেলে দেন নাই? আমি বলছি না যে, এই জন্য বোমাবাজি করতে হবে? শুধু এইটুকু বলতে চাচ্ছি, সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য সরকার দায় এড়িয়ে যেতে পারে কি-না?

কোকোর প্রসঙ্গে ফিরে আসি। আল্লাহ যদি এইভাবেই শাস্তি দিতেন।, তাহলে আমি জানি না, কতজন রাজনীতিবীদের সন্তান দুনিয়া’তে বেঁচে থাকতো? আমাদের রাজনীতিবীদরা সবাই অনেক ভালো। আল্লাহ তাদের সন্তানদের বাঁচায়া রাখুক। সেই সঙ্গে তারা আমাদেরকেও বাঁচতে দিক। এই কথার সাথে আমি একমত যে, মৃত্যুর বদলা মৃত্যু বা খুনের বদলা খুন হতে পারে না। মানুষের রক্তে হাত রাঙ্গিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া বৈধ হতে পারে না। আমি, আপনি, আমাদের মতোন সাধারণ মানুষরাই তো আগুনে পুরছি। যারা ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে এসব করছেন, তারা কিন্তু এসবের প্রভাবের বাইরেই থাকছেন। এই কথার সাথেও আমি একমত যে, খালেদা জিয়া হয়তো বা নিজের সন্তানের মৃত্যুতে আপনজন হারানোর ব্যাথাটা উপলব্ধি করতে পারবেন। হয়তোবা এমন কো ন কর্মসূচী দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন, যাতে সাধারণ মানুষকের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়। মানুষকে আগুনে পুড়ে মরতে হয়। আবার এমনটা না-ও হতে পারে। কিন্তু তার মানে এই না যে আমি আরেকটা মানুষের মৃত্যুতে খুশিতে বাকবাকুম করবো।

সেই সঙ্গে আরো একটা জিনিস আশা করবো যে, কেউই ক্ষমতার চেয়ারের জন্য মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না। নিজের দলের লোকরাই খালি মানুষ, আর বাকীদের ইচ্ছে মতো গুলি করা জায়েজ, দলীয় লোক ছাড়া কাউকে চাকরি দেওয়া যাবে না, এমনটা মনে করবেন না।

আপনার কি মনে হয়, যে আজকে যারা তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। তারা কিছুই করেন নাই। উনারা ধোয়া তুলসি পাতা। আজকে আপনি যেভাবে চিন্তা করছেন, আপনার কোন প্রিয় নেতা বা নেত্রীর কোন আপনজন মারা গেলে আপনি কি সেই একইভাবে চিন্তা করতেন? প্রশ্ন রইলো?

সমস্যা হলো কি, ভাই। এই দেশে কোন বাকস্বাধীনতা আছে কি-না তা নিয়ে আমার সন্দেহ হয়। আপনি যখন খুশি, যেমনি খুশি বিরোধীদলের নেতা নেত্রীদের যা মন চায় গালিগালাজ করতে পারেন। ইচ্ছেমতোন অশ্লীল ফটো কমেন্টস করে ফেসবুকে ছাড়তে পারেন। এই কাজ শুধু সাধারণ পাব্লিক করে, তা নয়। রাজনৈতিক নেতারা আরো এককাঠি বেশি সরেশ। উনারা রাজনীতির কথা ছেড়ে প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগত আক্রমন করতেই বেশি পছন্দ করেন। কিন্তু আপনি প্রধানমন্ত্রীর কোন যৌক্তিক সমালোচনাও করতে পারবেন না। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চই আসমান থেকে পড়েন নাই বা মাটি ফেটে বের হন নাই। জনগন তাঁর ভালো কাজের যেমন প্রশংসা করবে, তেমনি খারাপ লাগলে সমালোচনাও করবে। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি আইনের জাল বিছিয়ে এমন অবস্থা সৃষ্টি করা হইছে যে, কি আর বলবো। এখন তো প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করতেও ভয় লাগে। প্রধানমন্ত্রী তো প্রধানমন্ত্রী, ইদানিং তো ছাত্রলীগের সোনার ছেলেদের সমালোচনা করলেও পুলিশ ধরে নিয়ে যায়।

তারপরও কিছু কথা সাহস করে বললাম, আল্লাহ আমাদের সবাইকে রক্ষা করুক, আমিন।

(উপরের লেখা সম্পূর্ণই লেখকের ব্যক্তিগত অভিমত। কারো অনুভুতিতে আঘাত লাগলে তা ইচ্ছাকৃত নয়। লেখার সঙ্গে আপনার দ্বিমত থাকতেই পারে। যৌক্তিক সমালোচনা স্বাগতম।)

ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি (বাংলানিউজ১৬)/এলএইচ/
ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি (ওমেনআই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close