আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
ফেসবুক থেকে

করোনা এবং কিছু কথা

সঞ্জয় দে

দেশে সাধারণ ছুটি শেষ হওয়া নিয়ে তীব্র আতঙ্কে ভোগা লোকজন ড. বিজন কুমার শীলের লাইভ সাক্ষাৎকারটি দেখতে পারেন। ডেইলি স্টারের ফেসবুক লাইভে শনিবার রাতে তিনি বাংলাদেশে কভিডের বৈশিষ্ট্য ও ভাইরাসের আচরণ নিয়ে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, যা মানুষের মাত্রাতিরিক্ত আতঙ্ক দূর করতে সাহায্য করবে।

ড. শীল পরিষ্কারভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন, মানুষ যেখানেই লুকানোর চেষ্টা করুক না কেন, ভাইরাসটির মুখোমুখি কোনো না কোনোভাবে তাকে হতেই হবে। জনগোষ্ঠীর হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হওয়ার আগ পর্যন্ত এ অবস্থা থেকে নিষ্কৃতি নেই। ড. শীলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশের ৩০ থেকে ৪০ ভাগ মানুষ এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন এবং আগামী এক মাসের মধ্যে দেশ হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে, ফলে এরপর পরিস্থিতির উন্নতি ঘটার চিত্র ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান হবে।

বাংলাদেশে ইউরোপ-আমেরিকার মতো ভয়ঙ্কর মৃত্যু-পরিস্থিতি তৈরি না হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি মোটা দাগে দুটি ধারণা প্রকাশ করেছেন। প্রথমত, আমাদের উষ্ণ আবহাওয়া এবং দ্বিতীয়ত এ অঞ্চলের মানুষের রোগ প্রতিরোধ শক্তি। ইউরোপের যেখানে বেশি মৃত্যু হয়েছে সেখানে কম তাপমাত্রা ছিল এবং তার মধ্যে মানুষকে ঘরবন্দি করে আরো নাজুক অবস্থানে ঠেলে দেয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন। সেই সঙ্গে ইউরোপ-আমেরিকায় অনেক রোগব্যাধি নির্মূল হয়ে গেছে বলে সেখানকার নাগরিকদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশ খানিকটা কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছে।

বিপরীতে বাংলাদেশে ভাইরাসটি এসেছে মার্চের দিকে, যখন বেশ গরম। সেই সঙ্গে এখানকার মানুষ প্রতিনিয়ত রোগব্যাধি, ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে লড়াই করে বলে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি অ্যাকটিভ।

আলোচনাটি শোনার সময়ে আমার বারবারই অ্যান্ডার্স তেগনেলের কথা মনে পড়ছিল। সুইডেনকে অবারিত রাখার পেছনের এই মানুষটিকে বলতে গেলে গোটা বিশ্বের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রায়ই প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় সুইডেনে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর খতিয়ান দেখিয়ে এর জন্য তাকেই দায়ী করা হয়। সপ্তাহ দেড়েক আগে এ বিষয়ে তেগনেল বলেছিলেন, নরওয়ে-ডেনমার্কে মৃত্যু সুইডেনের তুলনায় হয়ত কম, কিন্তু মনে রাখতে হবে সুইডেন মাস খানেকের মধ্যেই হার্ড ইমিউনিটি প্রায় অর্জন করে ফেলবে। আর সেই পথে নরওয়ে-ডেনমার্ককেও একদিন নামতে হবে, তখন তাদের মৃত্যু হবে সুইডেনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।

ফেসবুক লাইভে ড. বিজন কুমার শীল গণস্বাস্থ্যের কিটের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি অকপটে বলেছেন, বিএসএমএমইউর মূল্যায়নের শুরুর দিকে তারা রক্তের নমুনা থেকে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে বলেছিলেন, পরে তারাই আবার রক্তের পরিবর্তে থু থু থেকে পরীক্ষার অনুরোধ করেন। ফলে বিএসএমএমইউকে আবার নতুন প্রটোকল তৈরি করতে হয়েছে। প্রক্রিয়াগত দেরির পেছনে এটি অন্যতম একটি কারণ। অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের সব কাজ এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদি।

বিএসএমএমইউতে প্রটোকলগত পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে সম্ভবত দিন তিনেক আগে আমাদের টেলিভিশনে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছিল। আর কোনো সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ বা প্রচার করেছে কিনা- আমার জানা নেই। ড. শীল বির্তকের মারপ্যাচে না জড়িয়ে কিটটিকে কী করে বাজারে আনা যায়- তার ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। তিনি কিছু আক্ষেপও জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বেহাল চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও আমলাতান্ত্রিকতায় সেসব আক্ষেপ যৌক্তিক..।

হেড অব ডিজিটাল মিডিয়া
ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন

ফেসবুক থেকে

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close