আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
বিনোদন

হরতালের আগুনে পুড়ছেন নির্মাতারাও!

wmn chwonika di 4.2.15-director-02ওমেনআই: চলছে অরাজকতা, দেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থায় বেহাল জনজীবন। প্রতিসিংহার আগ্রাসী প্রতিরূপ ও নিত্য নৈমিত্তিক নাশকতায় বিপর্যস্ত দৈনন্দিন জীবনযাপন। জীবিকার তাগিদে প্রাত্যহিক ছুটে চলা। তবুও শঙ্কা পিছু নেয়, প্রতিটি মুহুর্তে। যাত্রাপথ নিরাপদ তো? কিংবা গন্তব্য? দুশ্চিন্তা এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব পড়েনি, নেই এমন কোন ক্ষেত্র। বাদ যায়নি মিডিয়া। সর্বসাধারণের বিনোদনের দ্বায়িত্ব যাদের কাঁধে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে চলছেন তারাও। বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা, পেট্রোল বোমা আতঙ্ক কিংবা গাড়ি ভাঙচুরের ভয় নিয়েও কেমন করে চলছে শ্যুটিং? কেমন করেই বা তৈরি হচ্ছে নাটক টেলিফিল্ম? এ বিষয় নিয়ে বাংলামেইলের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশের চারজন ব্যস্ত পরিচালক-

চয়নিকা চৌধুরী: দেশের এই অবস্থায় আমরা কেউই নিশ্চিন্ত মনে নেই। সবসময় টেনশন কাজ করে। প্রতিটা মুহূর্ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হচ্ছে। অথচ আমাদের দেশের ঐতিহ্য অনুযায়ী এমন হবার কথা নয়। সামনেই ভাষা দিবস। এই ভাষার জন্য আমাদের বলিদান বিশ্বস্বীকৃত। বিশ্ব ক্রিকেটে আমাদের সুনাম দিন দিন বেড়েই চলছে। ওদিকে পোশাক শিল্পেও পৃথিবীবাসী জানে বাংলাদেশের নাম। সেখানে আমরাই যদি আমাদের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হই, তা কতটা হীন মানসিকতার পরিচয়? বর্তমান যুগে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মুহূর্তেই খবরাখবর সব দেশে চলে যায়। আমরা আমাদের কি ভাবমূর্তি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরছি? আমি শান্তি চাই। নিশ্চিন্ত কাজের পরিবেশ, নিরাপদ যাতায়ত এবং পরিবার ও পরিচিত মানুষের নিরাপত্তা চাই। এখন অ্যাম্বুলেন্সে চড়ে শ্যুটিং করছি। কারন কাজ তো থামিয়ে রাখতে পারি না। আমার রুটি-রুজি এই কাজে। হরতাল অবরোধের জন্য শ্যুটিং ডেট নিয়ে বিপদে পড়ি, আর্টিস্ট শিডিউল নিয়ে সমস্যা হয়, তাদের নিরাপত্তা জনিত দুশ্চিন্তায় থাকি, খরচ বেড়ে যায়, আরও শত সমস্যা। স্বামী-সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় কাটে প্রতিটা মুহূর্ত। দেশের এই অস্থিতিশীল অবস্থা পরিবর্তন হোক, শান্তি ফিরে আসুক প্রতিটি ক্ষেত্রে- এটাই প্রার্থনা

মাতিয়া বানু শুকু: দেশের বর্তমান অবস্থায় সবাই ভুগছি। প্রতিটা পেশার মানুষই অসহায়। আমরাও ব্যতিক্রম না। সব দিকের সমস্যা ম্যানেজ করে কাজ করতে হয়। বেশিরভাগ সময় কাজ ইনকমপ্লিট থেকে যায়। কিন্তু কাজ তো শেষ করতেই হবে। অর্থনৈতিক যে ক্ষতিটা হচ্ছে, তা পরিমানে খুব কম নয়। কিন্তু শ্যুটিং না হলে তো এর চেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়বো। তাই ঝুঁকি মাথায় নিয়েও শ্যুটিং শেষ করি। যাতায়তে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করি। অ্যাম্বুলেন্স দিয়েই কলাকুশলী আনা নেওয়ার কাজ করি। পরের দিন শুটিং থাকলে অনেক সময় তাদের যেতেই দেই না। হয় শ্যুটিং স্পটে, নয়তো নিজের কাছে রেখে দেই। শ্যুটিং যেহেতু করতেই হবে, তাই যারা কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করে তাদের বাদ দিতে বাধ্য হই। সে কারণে বেশিরভার ক্ষেত্রেই পরিকল্পনা উল্টা পাল্টা হয়ে যায়। নাটকের গল্প কিংবা স্ক্রিপ্ট বদলে যায়। মাঝে মাঝে তো শিডিউল জনিত কারণে কাজটাই হয় না। আর আউটডোরে শ্যুটিং করার কথা ভাবাই যায় না। নাটকে তাই আউটডোর শ্যুটিং রাখা সম্ভব হয় না।

ঢাকা, ৪ ফেব্রুয়ারি (ওমেনআই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close